
শিশুর সর্দি কাশি হলে করণীয় মূলত তিনটি: স্যালাইন ড্রপ দিয়ে নাক পরিষ্কার রাখা, বেশি করে তরল খাওয়ানো আর বিশ্রাম। ছোট শিশুকে নিজে থেকে কাশির সিরাপ দেবেন না, আর ১ বছরের কম শিশুকে মধু একদমই নয়। সাধারণ সর্দি ভাইরাসের কারণে হয়, তাই অ্যান্টিবায়োটিক এতে কাজ করে না (NHS)।
বর্ষা আর শীতের শুরুতে ঘরে ঘরে বাচ্চাদের নাক বন্ধ, হাঁচি আর খুকখুক কাশি লেগেই থাকে। বেশিরভাগ সর্দি এক থেকে দুই সপ্তাহে নিজে থেকেই সেরে যায়। এই সময়টা শিশুকে কীভাবে আরামে রাখবেন আর কোন লক্ষণ দেখলে দেরি করবেন না, সেটাই এই লেখায়।
নাক বন্ধ হলে: স্যালাইন ড্রপ ও সাকশন
ছোট শিশু নাক ঝাড়তে পারে না, তাই নাক বন্ধ থাকলে দুধ টানতে আর ঘুমাতে কষ্ট হয়। AAP এর পরামর্শ হলো স্যালাইন ড্রপ দিয়ে শুকনো সর্দি নরম করে তারপর বাল্ব সাকশন দিয়ে বের করা।
- শিশুকে চিত করে শুইয়ে মাথা সামান্য স্থির রাখুন।
- এক নাকে কয়েক ফোঁটা স্যালাইন দিন, কয়েক সেকেন্ড অপেক্ষা করুন।
- বাল্ব সাকশনের বাতাস আগে চেপে বের করে নিন, তারপর আলতো করে নাকের মুখে লাগিয়ে ছাড়ুন।
- অন্য নাকেও একইভাবে করুন।
- ব্যবহারের পর সাকশন সাবান-পানিতে ধুয়ে শুকিয়ে রাখুন।
খাওয়ানোর ঠিক আগে নাক পরিষ্কার করলে শিশু ভালোভাবে দুধ টানতে পারে। দিনে অনেকবার সাকশন করলে নাকের ভেতরটা লাল হয়ে যেতে পারে, তাই প্রয়োজন ছাড়া বারবার করবেন না। নাকের চারপাশ মুছতে নরম কাপড় ব্যবহার করুন, যেমন আমাদের Gerber ৮ প্যাক বেবি ওয়াশক্লথ। বাইরে থাকলে Fresh Happy Nappy বেবি ওয়াইপস কাজে আসে।
শিশুর সর্দি কাশি হলে করণীয়: তরল আর খাবার
সর্দির সময় শরীরে পানি ঠিক থাকলে সর্দি পাতলা হয়, কাশতে সুবিধা হয় (AAP)।
- বুকের দুধ খাওয়া শিশুকে বারবার দুধ দিন, একবারে কম খেলেও ঘন ঘন দিন।
- ৬ মাসের বেশি বয়সী শিশুকে দুধের পাশাপাশি পানি দিন।
- কয়েক দিন খিদে কম থাকা স্বাভাবিক (NHS)। জোর না করে অল্প অল্প নরম খাবার দিন।
- ছোট শিশুকে গরম পানীয় দেবেন না, পুড়ে যাওয়ার ভয় থাকে।
ঘুমানোর সময় কীভাবে শোয়াবেন
নাক বন্ধ দেখে অনেকে বালিশ উঁচু করে বা শিশুকে উপুড় করে শোয়ান। এটা করবেন না। ১ বছরের কম শিশুকে প্রতিটি ঘুমে চিত করে, সমান আর শক্ত বিছানায় শোয়াতে হবে, আর ১০ ডিগ্রির বেশি হেলানো কোনো জায়গা শিশুর ঘুমের জন্য নিরাপদ নয় (AAP)। বিস্তারিত পড়ুন আমাদের নবজাতকের নিরাপদ ঘুমের নিয়ম লেখায়।
ঘুমানোর আগে নাক পরিষ্কার করে দিলেই অনেকটা আরাম পায়। শিশু যে ঘরে ঘুমায় সেখানে ধোঁয়া, মশার কয়েলের ধোঁয়া বা কড়া সুগন্ধি থেকে দূরে রাখুন, এগুলো নাক আর গলাকে আরও বিরক্ত করে। ঘরের বাতাস খুব শুকনো হলে আর্দ্রতা ঠিক রাখার কথা ভাবতে পারেন (AAP)।
কাশির সিরাপ ও মধু নিয়ে সত্যি কথা
- দোকান থেকে কেনা কাশি-সর্দির ওষুধ ৪ বছরের কম শিশুর জন্য সুপারিশ করা হয় না, আর ৪ থেকে ৬ বছরে শুধু ডাক্তার বললে (AAP)।
- নাক খোলার ওষুধ (ডিকনজেস্ট্যান্ট) ৬ বছরের কম শিশুকে দেওয়া উচিত নয় (NHS)।
- ১ বছরের কম শিশুকে মধু দেবেন না, এমনকি মধু-লেবুর পানিতেও নয়। ১ বছরের পর অল্প মধু কাশি কমাতে সাহায্য করতে পারে (AAP)।
- গরম পানির বাটি থেকে ভাপ নেওয়ানো বিপজ্জনক, শিশুর গায়ে গরম পানি পড়ে যেতে পারে (NHS)।
- যেকোনো ওষুধের দরকার মনে হলে ধরন ও মাত্রা ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের কাছে জেনে নিন।
সংক্রমণ ছড়ানো কমাতে
- শিশুকে ধরার আগে আর নাক মোছার পরে হাত সাবান দিয়ে ধুয়ে নিন।
- যৌথ পরিবারে কারও সর্দি থাকলে শিশুকে চুমু খাওয়া থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ করুন।
- শিশুর রুমাল আর ছোট কাপড় আলাদা ধুয়ে নিন, যেমন Babi Mild বেবি ফ্যাব্রিক ওয়াশ দিয়ে। বর্ষায় কাপড় শুকানোর টিপস পাবেন আমাদের জামাকাপড় ধোয়ার গাইডে।
কখন ডাক্তার দেখাবেন
এই লক্ষণগুলো দেখলে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান (WHO, NHS):
- খুব দ্রুত শ্বাস নেওয়া
- শ্বাস নেওয়ার সময় পাঁজরের নিচে বুক ভেতরে ঢুকে যাওয়া
- শ্বাসের সঙ্গে ঘোঁৎ ঘোঁৎ শব্দ, বা শ্বাস মাঝে মাঝে থেমে যাওয়া
- ঠোঁট, জিহ্বা বা ত্বক নীলচে বা ধূসর
- একদম খেতে বা দুধ টানতে না পারা
- খিঁচুনি, অথবা শিশু নিস্তেজ হয়ে জাগছে না
এ ছাড়া ৩ মাসের কম শিশুর ৩৮°C বা বেশি জ্বর, ১২ ঘণ্টা বা বেশি সময় ডায়াপার শুকনো, খাওয়া অনেক কমে যাওয়া, ১০ দিনেও উন্নতি না হওয়া বা ৩ সপ্তাহের বেশি কাশি থাকলে ডাক্তার দেখান (NHS)।
সাধারণ প্রশ্ন
বাচ্চার সর্দি কত দিনে ভালো হয়?
সাধারণ সর্দি বেশিরভাগ সময় এক থেকে দুই সপ্তাহে নিজে থেকে সেরে যায়, ছোট শিশুদের একটু বেশি সময় লাগতে পারে। ১০ দিনেও উন্নতি না হলে বা খারাপ হতে থাকলে ডাক্তার দেখান।
নবজাতকের নাক বন্ধ হলে কী করব?
স্যালাইন ড্রপ দিয়ে নাকের সর্দি নরম করে বাল্ব সাকশন দিয়ে আলতো করে বের করুন, বিশেষ করে খাওয়ানোর আগে। নবজাতকের শ্বাসকষ্ট বা খেতে না পারার লক্ষণ থাকলে দেরি না করে ডাক্তার দেখান।
সর্দি-কাশিতে কি বাচ্চাকে গোসল করানো যাবে?
হ্যাঁ, কুসুম গরম পানিতে অল্প সময়ে গোসল করানো যায়, গরম পানির বাষ্প নাক খুলতেও সাহায্য করে। গোসলের পর দ্রুত মুছে শুকনো কাপড় পরিয়ে দিন।
শিশুর পরিচ্ছন্নতার দরকারি জিনিস পাবেন আমাদের বাথ ও হাইজিন কালেকশনে।
