শিশুর জামাকাপড় ধোয়ার নিয়ম: নতুন জামা থেকে বর্ষায় শুকানো

Baby Care

নতুন জামার ভাঁজ খুলে শিশুকে পরানোর আনন্দই আলাদা। কিন্তু দোকান থেকে আনা জামা সরাসরি পরানোর আগে একটু থামুন। শিশুর জামাকাপড় ধোয়ার নিয়ম জানা থাকলে নরম ত্বকের যত্ন নেওয়া সহজ হয়, আর বর্ষায় কাপড় শুকানোর ঝামেলাও অনেক কমে যায়।

নতুন জামা কেন আগে ধুয়ে নেবেন

নবজাতকের ত্বক প্রায়ই সংবেদনশীল হয়। তাছাড়া দোকানে বা কারখানায় জামাটা কত হাত ঘুরে এসেছে, তা আপনি জানেন না। তাই AAP নতুন জামা পরানোর আগে ধুয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেয় (HealthyChildren)। শুধু জ্যাকেট বা কোটের মতো যেসব কাপড় ত্বকে খুব একটা লাগে না, সেগুলো ব্যতিক্রম।

উপহার পাওয়া জামার ক্ষেত্রেও একই কথা। আমাদের নবজাতকের গিফট সেট ১০ পিস (৳৯৯০), যেটায় জামা, টুপি, মোজা ও মিটেন থাকে, সেটাও পরানোর আগে একবার ধুয়ে শুকিয়ে নিন। ডেলিভারির কয়েক সপ্তাহ আগেই প্রথম সেটের জামাগুলো ধুয়ে গুছিয়ে রাখলে পরে তাড়াহুড়ো করতে হয় না।

কোন ডিটারজেন্ট ব্যবহার করবেন

AAP বলছে, বেশিরভাগ সাধারণ ডিটারজেন্টেই শিশুর কাপড় ঠিকমতো পরিষ্কার হয়। শিশুর ত্বকে জ্বালা বা লালচে ভাব দেখা দিলে তখন মৃদু বেবি ডিটারজেন্ট বা সুগন্ধিমুক্ত হাইপোঅ্যালার্জেনিক ডিটারজেন্টে বদলে নেওয়ার কথা বলে তারা (HealthyChildren)।

অনেক বাবা-মা শুরু থেকেই শিশুর কাপড়ের জন্য আলাদা ডিটারজেন্ট রাখতে পছন্দ করেন। এমন হলে আমাদের Babi Mild বেবি ফ্যাব্রিক ওয়াশ ৫৭০ মি.লি. (৳৫২০) দেখতে পারেন। যেটাই ব্যবহার করুন, পরিমাণ মেপে দিন। বেশি ডিটারজেন্ট দিলে কাপড় থেকে পুরোটা ধুয়ে ফেলা কঠিন হয়।

আলাদা ধোবেন, নাকি একসাথে?

শিশুর কাপড় বড়দের কাপড় থেকে আলাদা ধোয়া একটা প্রচলিত পরামর্শ। তবে AAP এটাও বলে যে অনেক পরিবার পরিবারের অন্য কাপড়ের সাথে শিশুর কাপড় ধুয়েও কোনো সমস্যায় পড়েন না।

বাস্তবে একটা মাঝামাঝি পথ নিতে পারেন। প্রথম কয়েক মাস শিশুর কাপড় আলাদা বালতিতে ধোন। আর বাইরের কাদা, তেল বা রান্নাঘরের দাগ লাগা বড়দের কাপড়ের সাথে শিশুর কাপড় কখনো একসাথে ভেজাবেন না।

শিশুর জামাকাপড় ধোয়ার নিয়ম: ধাপে ধাপে

  1. জামার ট্যাগে ধোয়ার নির্দেশনা থাকলে আগে পড়ে নিন।
  2. মোজা, মিটেন আর টুপির মতো ছোট জিনিস একটা মেশ ব্যাগে ভরে নিন, যাতে হারিয়ে না যায়।
  3. জামায় ভেলক্রো থাকলে ধোয়ার আগে আটকে দিন, নইলে অন্য কাপড়ে আটকে সুতা টেনে যায় (HealthyChildren)।
  4. অল্প ডিটারজেন্ট মেশানো পানিতে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখুন।
  5. হাতে আলতো করে কচলে ধুয়ে নিন। মেশিনে ধুলে নরম বা জেন্টল মোড বেছে নিন।
  6. পরিষ্কার পানিতে দুই-তিনবার ধুয়ে নিন, যতক্ষণ না ফেনা পুরো চলে যায়।
  7. চিপে ঝেড়ে মেলে দিন।

দুধ, বমি আর পায়খানার দাগ

শিশুর কাপড়ে দুধ, ফর্মুলা, বমি বা পায়খানার দাগ লাগবেই। AAP-এর পরামর্শ হলো দাগ তাজা থাকতেই মুছে বা ধুয়ে ফেলা, দরকারে ওয়াইপস দিয়ে, তারপর ডিটারজেন্ট মেশানো পানিতে ভিজিয়ে রাখা (HealthyChildren)।

ময়লা কাপড় ভেজানোর জন্য বাথরুমে একটা আলাদা ঢাকনাওয়ালা বালতি রাখুন। এতে কাপড় জমে থেকে গন্ধ ছড়ায় না, আর দাগও শুকিয়ে বসে যায় না।

রোদে শুকানোর কিছু টিপস

আমাদের দেশে রোদের অভাব নেই, তাই এটা কাজে লাগান। রোদে কাপড় তাড়াতাড়ি আর পুরোপুরি শুকায়, ভ্যাপসা গন্ধও থাকে না।

  • রঙিন জামা উল্টে মেলে দিন, এতে রং তাড়াতাড়ি ফিকে হয় না।
  • রাস্তার পাশের বারান্দায় ধুলাবালি বেশি হলে ছাদে বা ভেতরের দিকে মেলুন।
  • সন্ধ্যার আগে কাপড় তুলে নিন, যাতে আবার আর্দ্রতা টেনে না নেয়।
  • কাপড় তোলার পর ঝেড়ে ভাঁজ করুন, পোকামাকড় আটকে আছে কিনা দেখে নিন।

বর্ষায় কাপড় শুকানোর উপায়

আষাঢ়-শ্রাবণে টানা বৃষ্টিতে শিশুর কাপড় শুকানোই সবচেয়ে বড় মাথাব্যথা। কিছু কৌশল কাজে আসে:

  • বর্ষার আগেই বাড়তি কয়েক সেট জামা, কাঁথা আর ন্যাপি জোগাড় রাখুন।
  • ঘরের ভেতর হ্যাঙ্গারে ফাঁকা ফাঁকা করে মেলে ফ্যানের নিচে রাখুন। গাদাগাদি করে মেললে কাপড় শুকায় না।
  • আইপিএস থাকলে লোডশেডিংয়ের সময়ও ফ্যানটা চালু রাখার চেষ্টা করুন।
  • প্রায় শুকনো কাপড় একবার ইস্ত্রি করে নিলে বাকি আর্দ্রতা চলে যায়।
  • আধা-ভেজা কাপড় কখনো আলমারিতে তুলবেন না, এতে গন্ধ আর দাগ হয়।
  • কাপড়ে ভ্যাপসা গন্ধ থেকে গেলে আবার ধুয়ে শুকিয়ে নিন।

ভাঁজ করে গুছিয়ে রাখা

পুরোপুরি শুকনো কাপড়ই শুধু ভাঁজ করুন। শিশুর জামা বড়দের আলমারির এক কোণে না রেখে আলাদা একটা তাক, ড্রয়ার বা ঢাকনাওয়ালা বক্সে রাখুন, যাতে ধুলা না জমে।

বয়স অনুযায়ী জামা আলাদা প্যাকেটে রাখলে খুঁজে পাওয়া সহজ হয়। যেমন শূন্য থেকে তিন মাস, তিন থেকে ছয় মাস। শিশু যে জামা ছোট হয়ে গেছে সেগুলো ধুয়ে শুকিয়ে আলাদা করে রাখুন, পরে কাউকে দিতে বা ছোট ভাইবোনের জন্য রাখতে পারবেন।

অনেক দিন তুলে রাখা জামা আবার বের করে পরানোর আগে একবার ধুয়ে রোদে দিয়ে নিন, বিশেষ করে বর্ষার পরে।

কখন ডাক্তার দেখাবেন: ডিটারজেন্ট বদলানোর পরেও জামা লাগার জায়গায় শিশুর ত্বকে লালচে ভাব, চুলকানি বা ফুসকুড়ি থাকলে শিশুর ডাক্তারকে দেখান।

সাধারণ প্রশ্ন

শিশুর কাপড়ে ফ্যাব্রিক সফটনার দেওয়া যাবে?

শিশুর কাপড়ের জন্য সফটনার জরুরি কিছু নয়। অনেক সফটনারে সুগন্ধি থাকে, তাই ব্যবহার করতে চাইলে শিশুর ত্বকে কোনো জ্বালা হচ্ছে কিনা খেয়াল রাখুন, আর সমস্যা দেখলে বন্ধ করে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

নতুন জামা কি একবারের বেশি ধুতে হবে?

সাধারণত একবার ভালো করে ধুয়ে নিলেই চলে। জামায় কড়া গন্ধ বা মাড়ের মতো শক্ত ভাব থাকলে দ্বিতীয়বার ধুয়ে নিতে পারেন।

শিশুর কাপড় কতদিন আলাদা ধোয়া উচিত?

এর কোনো বাঁধা সময় নেই। AAP বলছে অনেকে একসাথে ধুয়েও সমস্যায় পড়েন না, তবে শিশুর ত্বকে জ্বালা দেখা দিলে আলাদা ধোয়া আর মৃদু ডিটারজেন্টে ফিরে যান।

নবজাতকের জামা, কাঁথা আর দরকারি জিনিস দেখতে আমাদের ০ থেকে ১২ মাসের কালেকশন ঘুরে আসুন।

1 Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

WhatsApp-এ কথা বলুন