
নবজাতকের জন্য দিনে অনেকবার ডায়াপার বদলাতে হয়, আর কাজটা ঠিকভাবে না হলে খুব সহজেই ডায়াপার র্যাশ দেখা দিতে পারে। আমাদের দেশের গরম আর আর্দ্র আবহাওয়ায় এই ঝুঁকি আরও বাড়ে। চলুন জেনে নিই ডায়াপার বদলানোর সঠিক নিয়ম আর র্যাশ এড়াতে প্রতিদিনের কিছু সহজ অভ্যাস।
কতবার ডায়াপার বদলাবেন
নিয়মটা সহজ: ডায়াপার ভিজে গেলে বা শিশু পায়খানা করলেই বদলে দিন। NHS বলছে, ছোট শিশুর দিনে ১০ থেকে ১২ বার আর একটু বড় শিশুর দিনে ৬ থেকে ৮ বার ডায়াপার বদলানোর দরকার হতে পারে (NHS)।
অনেকে খরচ বাঁচাতে বা ঘুম না ভাঙাতে একটা ডায়াপার অনেকক্ষণ রেখে দেন। কিন্তু প্রস্রাব আর পায়খানা দীর্ঘ সময় ত্বকে লেগে থাকাই র্যাশের সবচেয়ে বড় কারণ। তাই পায়খানা করলে রাতেও বদলে দিন।
বদলানোর আগে সব হাতের কাছে রাখুন
- পরিষ্কার ডায়াপার
- ওয়াইপস, অথবা কুসুম গরম পানি ও তুলা
- শুকনো নরম কাপড়
- ময়লা ডায়াপার ফেলার একটা ব্যাগ
- দরকার হলে ক্রিম আর এক সেট বাড়তি জামা
মেঝেতে ম্যাট বা তোয়ালে বিছিয়ে ডায়াপার বদলানো সবচেয়ে নিরাপদ, আর বসে কাজ করলে আপনার পিঠেও চাপ কম পড়ে (NHS)। খাটে বদলালে নিচে একটা ওয়াটারপ্রুফ ওয়াশেবল ইউরিন ম্যাট (৳৯৯৯) বিছিয়ে নিলে চাদর ভেজার চিন্তা থাকে না। উঁচু জায়গায় শিশুকে রেখে কখনো মুখ ফিরাবেন না বা সরে যাবেন না।
ধাপে ধাপে ডায়াপার বদলানো
- সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিন।
- পুরোনো ডায়াপারের সামনের অংশ দিয়েই পায়খানার বেশিরভাগটা মুছে নিন।
- ত্বকের ভাঁজসহ পুরো জায়গা ওয়াইপস বা তুলা-পানি দিয়ে পরিষ্কার করুন।
- মেয়ে শিশুকে সবসময় সামনে থেকে পেছনের দিকে মুছুন, যাতে জীবাণু যোনিপথের দিকে না যায়। ছেলে শিশুর অণ্ডকোষ ও পুরুষাঙ্গের চারপাশ মুছুন, তবে সামনের চামড়া টেনে পেছনে সরাবেন না (NHS)।
- আলতো করে চেপে চেপে শুকান, ঘষবেন না। ঘর গরম থাকলে কিছুক্ষণ ডায়াপার ছাড়া রাখুন।
- দরকার হলে পাতলা করে ক্রিম লাগান।
- নতুন ডায়াপার ঠিকমতো লাগান, খুব টাইট করবেন না।
- আবার হাত ধুয়ে নিন।
ওয়াইপস কেনার সময় প্যাকেটে দেখে নিন সুগন্ধি বা অ্যালকোহল আছে কিনা, কারণ NHS সুগন্ধি ও অ্যালকোহলমুক্ত ওয়াইপস অথবা শুধু পানি ব্যবহারের পরামর্শ দেয় (NHS)। বাইরে বেড়াতে গেলে বা রাতে তাড়াহুড়োর সময় আমাদের Fresh Happy Nappy বেবি ওয়াইপস ১২০ পিস (৳১৫০) হাতের কাছে রাখতে পারেন।
ডায়াপার র্যাশ কেন হয়
র্যাশ হলে ডায়াপারের জায়গার ত্বক লালচে হয়, কখনো ফুলে যায় বা শিশু অস্বস্তিতে কাঁদে। NHS-এর তালিকায় সাধারণ কিছু কারণ হলো (NHS):
- অনেকক্ষণ ভেজা বা নোংরা ডায়াপার পরে থাকা
- ঠিকমতো পরিষ্কার না করা
- ডায়াপার ঘষা লাগা বা কম শোষণক্ষম ডায়াপার
- সাবান, ডিটারজেন্ট বা সুগন্ধি ওয়াইপসে অ্যালার্জি
- ডায়রিয়া বা ঘনঘন পায়খানা, কিছু ওষুধ যেমন অ্যান্টিবায়োটিক
ডায়াপার র্যাশ এড়ানোর উপায়
- দ্রুত বদলান, শুকনো রাখুন। ভেজা ত্বকেই র্যাশ সবচেয়ে বেশি হয়।
- ডায়াপার-মুক্ত সময় দিন। দিনে কয়েকবার কিছুক্ষণ খোলা রাখলে ত্বকে বাতাস লাগে। নিচে ম্যাট বা পুরোনো তোয়ালে বিছিয়ে নিন।
- ঠিক মাপের ডায়াপার নিন। বেশি শোষণক্ষম ডায়াপার ব্যবহার করুন এবং বিশেষ করে রাতে খুব টাইট করে লাগাবেন না (HealthyChildren)।
- পাউডার আর সুগন্ধি এড়িয়ে চলুন। NHS ট্যালকম পাউডার, বেবি লোশন, বাবল বাথ ও সুগন্ধি সাবান এড়াতে বলে।
- নতুন ব্র্যান্ডে সমস্যা হলে বদলে দেখুন। অ্যালার্জির সন্দেহ হলে AAP দুই সপ্তাহের মতো অন্য ব্র্যান্ড ব্যবহার করে দেখার কথা বলে।
- নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক মলম লাগাবেন না। AAP বলছে এতে কখনো কখনো জ্বালা আরও বাড়তে পারে।
যে ভুলগুলো প্রায়ই হয়
- নোংরা ডায়াপার খুলে সাথে সাথে নতুনটা পরিয়ে দেওয়া, ত্বক না শুকিয়েই।
- পরিষ্কার করার সময় জোরে জোরে ঘষা, এতে নরম ত্বক আরও লাল হয়ে যায়।
- ছোট হয়ে যাওয়া ডায়াপার চালিয়ে যাওয়া। শিশুর ওজন বাড়লে মাপও বদলান।
- ব্যবহৃত ডায়াপার খোলা জায়গায় ফেলে রাখা। মুড়িয়ে ব্যাগে ভরে ঢাকনাওয়ালা ময়লার ঝুড়িতে ফেলুন।
- বদলানোর পর হাত না ধোয়া। এতে পরিবারের অন্যদের মধ্যেও জীবাণু ছড়াতে পারে।
গরম, ঘাম আর লোডশেডিং
গরমকালে, বিশেষ করে লোডশেডিংয়ে ফ্যান বন্ধ থাকলে, ডায়াপারের ভেতরে ঘাম জমে ত্বক ভেজা থাকে। এমন দিনে একটু বেশি ঘনঘন চেক করুন এবং ওপরে ঢিলেঢালা সুতি জামা পরান।
বাইরে যাওয়ার সময় ব্যাগে বাড়তি ডায়াপার, ওয়াইপস আর ময়লা রাখার একটা পলিব্যাগ নিন। রিকশা বা বাসে লম্বা যাত্রায় ডায়াপার বদলানোর সুযোগ কম থাকে, তাই বের হওয়ার ঠিক আগে একবার বদলে নিন।
ক্রিম নিয়ে দুটো কথা
NHS বলছে, ফার্মাসিস্ট উপযুক্ত ব্যারিয়ার ক্রিম সাজেস্ট করতে পারেন, যা প্রতিবার ডায়াপার বদলানোর সময় পাতলা স্তরে লাগাতে হয়। আমাদের কাছে Sudocrem বেবি ডায়াপার ক্রিম ১২৫ গ্রাম (৳৬৯০) পাওয়া যায়। তবে আপনার শিশুর জন্য কোন ক্রিম ঠিক, সেটা শিশুর ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের কাছ থেকে জেনে নিন।
কখন ডাক্তার দেখাবেন: দুই-তিন দিন যত্নের পরেও র্যাশ না কমলে বা বাড়লে, ফোসকা, পুঁজ, রস বা খোসা ওঠা দেখা দিলে, শিশুর জ্বর থাকলে বা শিশু খুব অস্বস্তিতে থাকলে দেরি না করে ডাক্তার দেখান (HealthyChildren)।
সাধারণ প্রশ্ন
র্যাশ হলে কি পাউডার দেওয়া যায়?
NHS ট্যালকম পাউডার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেয়। জায়গাটা পরিষ্কার করে ভালোভাবে শুকিয়ে কিছুক্ষণ খোলা রাখাই বেশি কাজের।
কাপড়ের ন্যাপি ভালো, নাকি ডিসপোজেবল ডায়াপার?
দুটোই ব্যবহার করা যায়। আসল কথা হলো ভিজলেই বদলানো, ভালোভাবে পরিষ্কার করা আর ত্বক শুকনো রাখা। কাপড়ের ন্যাপির লাইনার ঘনঘন বদলাতে বলে NHS।
রাতে ঘুম ভাঙিয়ে ডায়াপার বদলাতে হবে?
শিশু পায়খানা করলে অবশ্যই বদলে দিন। শুধু প্রস্রাব হলে রাতের খাওয়ানোর সময়টায় বদলে নিলে শিশুর ঘুমও কম ভাঙে।
ডায়াপার বদলানোর দরকারি জিনিসগুলো পাবেন আমাদের বেবি কেয়ার কালেকশনে।
