
ঘরে নতুন অতিথি আসার পর প্রথম গোসলটা অনেক বাবা-মায়ের কাছেই একটু ভয়ের। এত ছোট আর নরম শরীর, হাত থেকে পিছলে যাবে না তো? এই লেখায় নবজাতককে গোসল করানোর নিয়ম সহজ ভাষায় ধাপে ধাপে বলা হলো, যাতে প্রথমবারেই আপনি নিশ্চিন্তে কাজটা করতে পারেন।
কত দিন পরপর গোসল করাবেন
নবজাতককে প্রতিদিন গোসল করানো জরুরি নয়। আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিক্স বলছে, প্রথম বছরে সপ্তাহে তিনবার গোসলই অনেক সময় যথেষ্ট, কারণ বেশি গোসলে শিশুর ত্বক শুকিয়ে যেতে পারে (HealthyChildren)।
আমাদের গরম আর আর্দ্র আবহাওয়ায় শিশু ঘামতে পারে। যেদিন গোসল করাচ্ছেন না, সেদিন মুখ, গলা, হাত আর ডায়াপারের জায়গা ভেজা নরম কাপড়ে মুছে দিলেই চলে। শিশু যদি গোসল উপভোগ করে, তাহলে প্রতিদিন গোসলেও সমস্যা নেই (NHS)।
খাওয়ানোর ঠিক পরপর, কিংবা শিশু যখন খুব ক্ষুধার্ত বা ক্লান্ত, তখন গোসল না করানোই ভালো। শিশু জেগে আছে এবং শান্ত আছে, এমন একটা সময় বেছে নিন।
নাড়ি না পড়া পর্যন্ত স্পঞ্জ বাথ
নাভির নাড়ির অংশটা সাধারণত এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে শুকিয়ে পড়ে যায়। ততদিন শিশুকে পানিতে না বসিয়ে স্পঞ্জ বাথ দেওয়ার পরামর্শ দেয় AAP (HealthyChildren)। নাড়ির জায়গাটা পরিষ্কার ও শুকনো রাখুন, আর ডায়াপার নাড়ির নিচে ভাঁজ করে পরান যাতে প্রস্রাবে না ভেজে (HealthyChildren)।
স্পঞ্জ বাথ দেওয়ার সহজ নিয়ম:
- ঘর একটু উষ্ণ রাখুন। শীতকালে গোসলের সময় ফ্যান বন্ধ করে দিন।
- শিশুকে তোয়ালেতে মুড়িয়ে নিন, যে অংশ মুছবেন শুধু সেটুকু খুলুন।
- প্রতিটি চোখ আলাদা পরিষ্কার তুলা দিয়ে নাকের দিক থেকে বাইরের দিকে মুছুন।
- কানের শুধু বাইরের অংশ মুছুন, ভেতরে কখনো কটন বাড ঢোকাবেন না।
- এরপর মুখ, গলা, হাত, শরীর এবং সবশেষে ডায়াপারের জায়গা মুছুন। গলা ও উরুর ভাঁজগুলো ভালো করে শুকিয়ে দিন।
এই কাজে কয়েকটা নরম কাপড় হাতের কাছে থাকলে সুবিধা হয়। আমাদের Gerber 8 Pack Baby Washcloth (৳১৫০) প্যাকে ৮টি কাপড় থাকায় মুখ আর শরীরের জন্য আলাদা কাপড় রাখা সহজ হয়।
পানির তাপমাত্রা কেমন হবে
পানি হবে কুসুম গরম, গরম নয়। আগে ঠান্ডা পানি দিন, তারপর গরম পানি মেশান, আর ভালো করে নেড়ে নিন যাতে কোথাও বেশি গরম অংশ না থাকে। কবজি বা কনুই ডুবিয়ে তাপমাত্রা পরীক্ষা করুন (NHS)।
বাসায় গিজার থাকলে বাড়তি সাবধান হোন। গরম কলের পানি শিশুদের পুড়ে যাওয়ার একটা বড় কারণ, তাই AAP বলছে কলের সবচেয়ে গরম পানিও যেন ১২০ ডিগ্রি ফারেনহাইট (প্রায় ৪৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস) ছাড়িয়ে না যায় (HealthyChildren)।
আমাদের থার্মোমিটারসহ ফোল্ডেবল বেবি বাথটাব (৳৩৯৪০) ব্যবহার করলে পানির তাপমাত্রা চোখে দেখে নেওয়া যায়। তবু শিশুকে নামানোর আগে নিজের কনুই দিয়ে একবার পরীক্ষা করার অভ্যাসটা রাখুন।
নবজাতককে গোসল করানোর নিয়ম: ধাপে ধাপে টাবে গোসল
নাড়ি পড়ে গিয়ে জায়গাটা শুকিয়ে গেলে টাবে বা বড় গামলায় গোসল শুরু করতে পারেন। পানি রাখুন অল্প, মোটামুটি দুই ইঞ্চি বা পাঁচ সেন্টিমিটারের মতো। চলমান কলের পানির নিচে কখনো শিশুকে গোসল করাবেন না (HealthyChildren)।
- সব জিনিস আগেই হাতের কাছে নিন: দুটি তোয়ালে, পরিষ্কার ডায়াপার, জামা আর তুলা। সন্ধ্যায় গোসল করালে লোডশেডিংয়ের কথা ভেবে চার্জার লাইট কাছে রাখুন।
- পানির তাপমাত্রা পরীক্ষা করুন।
- শিশুকে কোলে রেখে আগে মুখ মুছে নিন।
- মাথাটা পাত্রের ওপর ধরে সাধারণ পানি দিয়ে চুল ধুয়ে আলতো করে মুছে দিন।
- ডায়াপার খুলে ময়লা মুছে ফেলুন।
- এক হাতে মাথা, ঘাড় ও কাঁধ ধরে, পা আগে দিয়ে আস্তে করে পানিতে নামান। মাথা সবসময় পানির ওপরে রাখুন।
- অন্য হাতে শরীরে পানি ঢালুন যাতে ঠান্ডা না লাগে। সাবান দিলে খুব অল্প মৃদু সাবান দিন এবং দ্রুত ধুয়ে ফেলুন।
- তুলে সাথে সাথে তোয়ালেতে মুড়িয়ে চেপে চেপে শুকান, বিশেষ করে গলা, বগল আর উরুর ভাঁজ।
- গোসল শেষে টাবের পানি সাথে সাথে ফেলে দিন।
শরীর মোছার জন্য নরম সিলিকন বেবি বাথ স্পঞ্জ (২ পিস) (৳১৫০) রাখতে পারেন। নবজাতকের ত্বক জোরে ঘষার দরকার নেই, আলতো হাতে মুছলেই হয়।
নিরাপত্তার কিছু কঠিন নিয়ম
- এক সেকেন্ডের জন্যও শিশুকে পানিতে একা রাখবেন না (NHS)। দরজায় কেউ এলে বা ফোন বাজলে শিশুকে তোয়ালেতে মুড়িয়ে সাথে নিয়ে যান।
- বড় ভাইবোনের দায়িত্বে শিশুকে গোসলের সময় রেখে যাবেন না, একজন বড় মানুষ সবসময় পাশে থাকবেন।
- গোসলের পুরো সময় এক হাত শিশুর গায়ে রাখুন। বাথ সিট বা কোনো সাপোর্টের ওপর ভরসা করবেন না, NHS ও AAP দুইই এ ব্যাপারে সতর্ক করে।
- বাথরুমের মেঝে ভেজা থাকলে আগে মুছে নিন, যাতে শিশু কোলে নিয়ে আপনি নিজে পিছলে না পড়েন।
যৌথ পরিবারে নানা পরামর্শ
অনেক বাড়িতে দাদি-নানিরা গোসলের আগে তেল মালিশ বা রোদে বসানোর কথা বলেন। অভিজ্ঞদের সাহায্য নিশ্চয়ই কাজে লাগে, তবে কোন তেল বা পণ্য ব্যবহার করবেন সেটা শিশুর ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করে নিন। NHS শিশুর জন্য উপযোগী পণ্য ব্যবহারের কথাই বলে।
শীতের দিনে দুপুরের উষ্ণ সময়টা গোসলের জন্য বেছে নিন এবং দরজা-জানালা বন্ধ রাখুন। গরমের দিনে গোসল দ্রুত শেষ করে শিশুকে সাথে সাথে শুকিয়ে জামা পরান।
কখন ডাক্তার দেখাবেন: নাড়ি থেকে রক্ত পড়তে থাকলে, নাড়ির গোড়া লাল হলে বা দুর্গন্ধযুক্ত হলদে রস বের হলে, ছুঁলে শিশু কাঁদলে, কিংবা তিন সপ্তাহ বয়সেও নাড়ি না পড়লে শিশুর ডাক্তারকে দেখান (HealthyChildren)।
সাধারণ প্রশ্ন
নবজাতককে কি প্রতিদিন গোসল করাতে হবে?
না, জরুরি নয়। AAP অনুযায়ী প্রথম বছরে সপ্তাহে তিনবার গোসলই অনেক সময় যথেষ্ট। মাঝের দিনগুলোতে মুখ, হাত আর ডায়াপারের জায়গা মুছে দিলেই চলে।
নবজাতকের গোসলে সাবান বা শ্যাম্পু লাগবে কি?
প্রথম দিকে সাধারণ পানিই যথেষ্ট, NHS নবজাতকের চুল শুধু পানি দিয়ে ধোয়ার কথা বলে। সাবান দিলে খুব অল্প মৃদু সাবান দিয়ে দ্রুত ধুয়ে ফেলুন।
গোসলের সবচেয়ে ভালো সময় কোনটা?
যখন শিশু জেগে আছে, শান্ত আছে এবং খাওয়ানোর ঠিক পরপর নয়। শীতে দুপুর সুবিধাজনক, আর অনেক পরিবার রাতে ঘুমের আগে গোসলকে রুটিনের অংশ বানিয়ে নেয়।
গোসলের দরকারি সব জিনিস একসাথে দেখতে আমাদের বাথ ও হাইজিন কালেকশন ঘুরে আসুন।
