শীতে শিশুর ত্বকের যত্ন: লোশন, তেল, ফাটা গাল ও একজিমা

Baby Care

শীতে শিশুর ত্বকের যত্নের মূল তিনটি কাজ হলো: গোসল কম ও ছোট রাখা, গোসলের পরপরই সুগন্ধিমুক্ত হালকা ময়েশ্চারাইজার লাগানো, আর ত্বক ঘষে-মেজে পরিষ্কার না করা। শীতের শুকনো বাতাসে শিশুর পাতলা ত্বক খুব দ্রুত আর্দ্রতা হারায়, তাই নিয়মিত ময়েশ্চার ধরে রাখাটাই আসল।

অক্টোবরের শেষ থেকেই অনেক শিশুর গাল লালচে খসখসে হয়ে যায়, ঠোঁট ফাটে, হাত-পায়ের চামড়া উঠতে থাকে। কেউ বলেন সরিষার তেল মাখাও, কেউ বলেন লোশন। এই লেখায় সহজভাবে দেখে নিই কোনটা কতটা কাজের, আর কখন সেটা শুধু শুষ্কতা নয়, একজিমা হতে পারে।

শীতে শিশুর ত্বকের যত্ন কেন আলাদা

শিশুর ত্বক বড়দের চেয়ে পাতলা, আর শীতে বাতাসে আর্দ্রতা কম থাকে। তার উপর গরম পানিতে লম্বা গোসল, কড়া সাবান আর মোটা উলের কাপড়ের ঘষা মিলে ত্বক আরও শুকিয়ে যায়। ফলে চুলকানি, লালচে ভাব আর ফাটা দেখা দেয়।

গোসল কতবার, কীভাবে

শীতে রোজ গোসল করানোর দরকার নেই। আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিক্স বলে, প্রথম বছরে সপ্তাহে প্রায় তিনবার গোসলই যথেষ্ট হতে পারে, এর বেশি গোসল ত্বক শুকিয়ে দিতে পারে (AAP)। মাঝের দিনগুলোতে নরম কাপড় ভিজিয়ে মুখ, গলা, হাত আর ডায়াপারের জায়গা মুছে দিলেই চলে। এ কাজে নরম Gerber 8 Pack Baby Washcloth সুবিধাজনক।

গোসলের সময় যা মানবেন:

  1. পানি হবে কুসুম গরম, গরম নয়। কব্জি দিয়ে পরখ করে নিন।
  2. গোসল ছোট রাখুন, পানিতে বেশিক্ষণ বসিয়ে রাখবেন না।
  3. সাবান কম ব্যবহার করুন। AAP হালকা, নিউট্রাল pH, বাড়তি উপাদানহীন সাবান দরকার হলে তবেই দিতে বলে এবং সঙ্গে সঙ্গে ধুয়ে ফেলতে বলে।
  4. তোয়ালে দিয়ে ঘষবেন না, আলতো চেপে চেপে মুছুন।
  5. ত্বক হালকা ভেজা থাকতেই ময়েশ্চারাইজার লাগান।

লোশন, ক্রিম নাকি তেল

AAP-এর পরামর্শ হলো গোসলের পর অল্প পরিমাণ সুগন্ধিমুক্ত, হাইপোঅ্যালার্জেনিক ময়েশ্চারাইজিং লোশন লাগানো (AAP)। খুব শুষ্ক ত্বকে পাতলা লোশনের চেয়ে একটু ঘন ক্রিম বেশি সময় আর্দ্রতা ধরে রাখে।

কেনার সময় দেখুন:

  • সুগন্ধি বা পারফিউম যত কম, তত ভালো।
  • রঙিন, ঝাঁঝালো গন্ধের পণ্য এড়িয়ে চলুন।
  • নতুন কিছু প্রথমবার দিলে হাতের ছোট জায়গায় লাগিয়ে এক দিন দেখুন লাল হয় কি না।

সরিষার তেল মালিশ: সৎভাবে বলি

আমাদের দেশে শীতে শিশুকে সরিষার তেল মেখে রোদে রাখা বহু প্রজন্মের অভ্যাস। মালিশের সময় মা-বাবা আর শিশুর মধ্যে যে স্পর্শ আর আদর হয়, সেটা নিঃসন্দেহে সুন্দর। কিন্তু সরিষার তেল শিশুকে “গরম রাখে” বা হাড় মজবুত করে, এমন কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই।

সরিষার তেলের ঝাঁঝ কিছু শিশুর ত্বকে জ্বালা বা লালচে ভাব তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে যাদের ত্বক আগে থেকেই শুষ্ক বা একজিমাপ্রবণ। NHS বলে, মালিশের জন্য তেল বা লোশন দেওয়া ঐচ্ছিক, তবে আগে নিশ্চিত হয়ে নিন সেটা শিশুর জন্য উপযুক্ত (NHS)। তাই মালিশ করতে চাইলে:

  • ত্বক লাল, খসখসে বা একজিমার মতো হলে সরিষার তেল বাদ দিন।
  • তেলে রসুন বা অন্য কিছু দিয়ে গরম করে লাগাবেন না।
  • নাক, কান, চোখ আর মাথার তালুর নরম জায়গায় তেল ঢালবেন না।
  • দাদি-নানিকে বুঝিয়ে বলুন, আদরের মালিশ চলতেই পারে, শুধু তেলটা বদলে বা লোশন দিয়ে।

ফাটা গাল ও ঠোঁটের যত্ন

শিশুর গাল সবচেয়ে বেশি বাতাস আর লালার সংস্পর্শে আসে। মুখের লালা বারবার শুকিয়ে গেলে গাল আরও ফাটে। নরম কাপড় দিয়ে লালা চেপে মুছে দিন, ঘষবেন না, তারপর পাতলা করে ময়েশ্চারাইজার লাগান।

ঠোঁট ফাটলে পরিষ্কার আঙুলে সামান্য ময়েশ্চারাইজার বা চিকিৎসকের সুপারিশ করা বাম দিতে পারেন। বড়দের লিপস্টিক বা সুগন্ধি লিপবাম শিশুর ঠোঁটে দেবেন না। খাওয়ানোর পর মুখ মুছে দেওয়ার অভ্যাসও সাহায্য করে।

শুষ্ক ত্বক নাকি একজিমা

সাধারণ শুষ্কতা নিয়মিত ময়েশ্চারাইজারে কয়েক দিনেই ভালো হয়ে আসে। একজিমা হলে চুলকানি বেশি থাকে এবং বারবার ফিরে আসে। NHS জানায়, শিশুদের একজিমা প্রায়ই মুখে দেখা দেয়, কনুই, হাঁটু আর হাতেও হতে পারে; ত্বক চুলকানিযুক্ত, শুষ্ক, ফাটা, খসখসে বা মোটা হয়ে যেতে পারে (NHS)।

একজিমা হলে NHS যা বলে:

  • দিনে অন্তত দুইবার ইমোলিয়েন্ট বা ময়েশ্চারাইজার লাগান, ভালো হয়ে গেলেও চালিয়ে যান।
  • সাবানের বদলে ইমোলিয়েন্ট দিয়ে ধোয়ান।
  • আঙুল ডুবিয়ে না নিয়ে চামচ দিয়ে ক্রিম তুলুন।
  • নখের আঁচড় থেকে বাঁচাতে অ্যান্টি-স্ক্র্যাচ মিটেন কাজে আসে।

মিটেন আর নরম সুতির জামা একসঙ্গে পেতে আমাদের নবজাতকের গিফট সেট ১০ পিস দেখতে পারেন। উলের সোয়েটার সরাসরি ত্বকে না পরিয়ে নিচে একটা সুতির স্তর দিন।

জামাকাপড় আর ধোয়ার দিকেও খেয়াল

কড়া ডিটারজেন্টের অবশিষ্টাংশ কাপড়ে থেকে গেলে সংবেদনশীল ত্বকে অস্বস্তি হতে পারে। শিশুর কাপড় আলাদা ধুয়ে ভালো করে কয়েকবার পানিতে ধুয়ে নিন। অনেকে এজন্য Babi Mild বেবি ফ্যাব্রিক ওয়াশ ব্যবহার করেন। বিস্তারিত নিয়ম পাবেন আমাদের শিশুর জামাকাপড় ধোয়ার নিয়ম লেখায়। ডায়াপারের জায়গার লালচে ভাব নিয়ে আলাদা গাইড আছে: ডায়াপার র‍্যাশ এড়ানোর উপায়।

কখন ডাক্তার দেখাবেন: ত্বকে ফোসকা, পুঁজ, রস ঝরা বা চলটা পড়লে, জায়গাটা ফুলে গরম ও ব্যথাযুক্ত হলে, হঠাৎ খুব বেড়ে গেলে, শিশুর জ্বর থাকলে বা অসুস্থ মনে হলে দ্রুত শিশু বিশেষজ্ঞ দেখান। নিয়মিত যত্নেও উন্নতি না হলেও ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

সাধারণ প্রশ্ন

শীতে বাচ্চার গাল ফাটলে কী করবো?

লালা বা খাবার লেগে থাকলে নরম কাপড়ে চেপে মুছে দিন, তারপর সুগন্ধিমুক্ত ময়েশ্চারাইজার পাতলা করে দিনে কয়েকবার লাগান। কয়েক দিনে উন্নতি না হলে বা খুব চুলকালে ডাক্তার দেখান।

শিশুর জন্য সরিষার তেল ভালো নাকি লোশন?

সরিষার তেল শিশুকে উষ্ণ রাখে এমন নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই, আর কিছু শিশুর ত্বকে এটি জ্বালা করতে পারে। শুষ্ক ত্বকে সুগন্ধিমুক্ত, হালকা বেবি লোশন বা ক্রিম সাধারণত বেশি নিরাপদ পছন্দ।

শীতে শিশুকে প্রতিদিন গোসল করানো কি ঠিক?

প্রতিদিন গোসলের দরকার নেই, বেশি গোসলে ত্বক আরও শুকিয়ে যায়। সপ্তাহে দুই-তিনবার ছোট গোসল আর মাঝের দিনগুলোতে মুছে দেওয়াই যথেষ্ট।

শিশুর গোসল ও ত্বকের যত্নের জিনিস দেখুন আমাদের বাথ ও হাইজিন কালেকশনে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

WhatsApp-এ কথা বলুন