শিশুর জ্বর হলে করণীয়: তাপমাত্রা মাপা, ঘরে যত্ন ও বিপদ সংকেত

Baby Care

শিশুর জ্বর হলে করণীয় প্রথম কাজ হলো ডিজিটাল থার্মোমিটারে তাপমাত্রা মাপা, বেশি করে তরল খাওয়ানো আর হালকা কাপড় পরিয়ে রাখা। তাপমাত্রা ৩৮°C (১০০.৪°F) বা তার বেশি হলে সেটাকে জ্বর ধরা হয়। শিশুর বয়স ৩ মাসের কম হলে যেকোনো জ্বরেই দেরি না করে ডাক্তার দেখাতে হবে (NHS)।

জ্বর নিজে কোনো রোগ নয়, বরং শরীর যে কোনো সংক্রমণের সঙ্গে লড়ছে তার একটা লক্ষণ। তাই আতঙ্কিত না হয়ে ঠান্ডা মাথায় কয়েকটা বিষয় খেয়াল রাখলেই বেশিরভাগ সময় ঘরেই শিশুকে আরামে রাখা যায়। নিচে ধাপে ধাপে বলছি কী করবেন, কী করবেন না, আর কখন সোজা ডাক্তারের কাছে যাবেন।

শিশুর তাপমাত্রা কীভাবে মাপবেন

কপালে বা গালে হাত দিয়ে জ্বর বোঝা যায় না, আর কপালে লাগানোর স্ট্রিপও ভরসাযোগ্য নয় (AAP)। ঘরে একটা ডিজিটাল থার্মোমিটার রাখা খুব কাজের।

  1. থার্মোমিটারের মাথাটা শিশুর বগলের একদম ভেতরে রাখুন।
  2. হাতটা আলতো করে শরীরের সঙ্গে চেপে ধরে রাখুন।
  3. বিপ শব্দ হওয়া পর্যন্ত বা প্যাকেটে লেখা সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।
  4. গোসলের ঠিক পরে বা কাঁথা মুড়িয়ে রাখার পর মাপলে কয়েক মিনিট অপেক্ষা করে আবার মাপুন।

প্রতিবার কত তাপমাত্রা হলো আর কখন মাপলেন, মোবাইলে লিখে রাখুন। ডাক্তার দেখাতে গেলে এই তথ্য অনেক সাহায্য করে।

বয়স অনুযায়ী কোন জ্বরে কী করবেন

বয়সকখন ডাক্তারকে জানাবেন
৩ মাসের কম৩৮°C (১০০.৪°F) বা বেশি হলেই, অন্য লক্ষণ না থাকলেও
৩ থেকে ৬ মাস৩৯°C (১০২.২°F) বা বেশি হলে, অথবা শিশুকে অসুস্থ মনে হলে
৬ মাসের বেশিজ্বর ৫ দিন বা বেশি থাকলে, বা শিশু স্বাভাবিক আচরণ না করলে

এই সীমাগুলো NHS এর নির্দেশনা থেকে নেওয়া। তবে মনে রাখবেন, থার্মোমিটারের সংখ্যার চেয়ে শিশু কেমন আচরণ করছে সেটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

শিশুর জ্বর হলে করণীয়: ঘরে যত্ন

  • তরল বেশি দিন: বুকের দুধ খাওয়া শিশুকে বারবার দুধ দিন। ৬ মাসের বেশি বয়সী শিশুকে দুধের পাশাপাশি পানি দিন। আমাদের সিলিকন ফিডার ট্রাভেল ট্রেনিং বোতল সেট একটু বড় শিশুকে অল্প অল্প করে পানি খাওয়াতে কাজে আসে।
  • হালকা কাপড়: মোটা কাঁথা বা কয়েক স্তর জামা নয়, আবার পুরো খালি গায়েও নয়। নরম সুতি জামা সবচেয়ে ভালো, যেমন আমাদের নবজাতকের ১০ পিস কটন গিফট সেট এর জামাগুলো।
  • ঘর আরামদায়ক রাখুন: ফ্যান হালকা করে চালান, তবে বাতাস সরাসরি শিশুর গায়ে নয়।
  • বিশ্রাম ও নজর: রাতেও মাঝে মাঝে উঠে দেখুন শিশু কেমন আছে।
  • খাবার জোর করে নয়: খেতে না চাইলে চিন্তা করবেন না, তরলটাই আসল।

যে ভুলগুলো করবেন না

  • ঠান্ডা পানি দিয়ে গা মোছা বা গা স্পঞ্জ করা ঠিক নয়, এতে শিশু কাঁপতে পারে আর অস্বস্তি বাড়ে (NHS)।
  • জ্বর বাড়াতে কাঁথা-কম্বল চাপিয়ে ঘাম ঝরানোর পুরোনো অভ্যাস বাদ দিন।
  • শিশুকে কখনোই অ্যাসপিরিন দেবেন না।
  • কোন ওষুধ কতটুকু দেবেন, সেটা নিজে থেকে বা প্রতিবেশীর কথায় ঠিক করবেন না। ওষুধের ধরন ও মাত্রা সবসময় ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টকে জিজ্ঞেস করে নিন। শিশুর বয়স ও ওজন অনুযায়ী মাত্রা আলাদা হয়।

বাংলাদেশে বাড়তি সতর্কতা

বর্ষা ও তার পরের মাসগুলোতে ডেঙ্গুর ঝুঁকি থাকে। এই সময় শিশুর জ্বর হলে নিজে থেকে অপেক্ষা না করে ডাক্তারের পরামর্শ নিন, পরীক্ষা লাগবে কি না তিনিই বলবেন। অসুস্থ শিশু দিনেও বেশি ঘুমায়, তাই তখন ফোল্ডিং বেবি মশারি ব্যবহার করুন। মশা থেকে বাঁচানোর আরও উপায় পাবেন আমাদের ডেঙ্গু মৌসুমের গাইডে।

গরম আর লোডশেডিংয়ে ঘর গুমোট হয়ে গেলে শিশুকে ঘরের সবচেয়ে বাতাস চলাচল করা জায়গায় রাখুন। যৌথ পরিবারে সবাই নানা পরামর্শ দেবেন, কিন্তু ওষুধের সিদ্ধান্ত শুধু ডাক্তারের কথা মতো নিন।

কখন ডাক্তার দেখাবেন

নিচের যেকোনো একটি লক্ষণ দেখলে দেরি না করে হাসপাতালে বা জরুরি বিভাগে যান (NHS):

  • শিশুর বয়স ৩ মাসের কম আর তাপমাত্রা ৩৮°C বা বেশি
  • শ্বাস নিতে কষ্ট, খুব দ্রুত শ্বাস, বা শ্বাসের সময় বুক ভেতরে ঢুকে যাওয়া
  • গায়ে এমন র‍্যাশ যা গ্লাস চেপে ধরলেও মিলিয়ে যায় না
  • ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, আলোতে চোখ বন্ধ করে রাখা
  • ঠোঁট, জিহ্বা বা ত্বক নীলচে, ধূসর বা ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া
  • খুব নিস্তেজ, ঘুম থেকে জাগানো কঠিন, বা অস্বাভাবিক খিটখিটে
  • খিঁচুনি
  • ঠান্ডা হাত-পা

এ ছাড়া ৩ থেকে ৬ মাসের শিশুর ৩৯°C বা বেশি জ্বর, ৫ দিনের বেশি জ্বর, পানিশূন্যতার লক্ষণ (অনেকক্ষণ প্রস্রাব না হওয়া, মুখ শুকনো), বা মন বলছে কিছু ঠিক নেই, এসব ক্ষেত্রেও একই দিনে ডাক্তার দেখান।

সাধারণ প্রশ্ন

বাচ্চার কত জ্বর হলে চিন্তার বিষয়?

৩৮°C (১০০.৪°F) বা বেশি হলে জ্বর ধরা হয়। ৩ মাসের কম শিশুর ক্ষেত্রে এটুকুই ডাক্তার দেখানোর জন্য যথেষ্ট। বড় শিশুর ক্ষেত্রে সংখ্যার পাশাপাশি তার আচরণ, খাওয়া আর শ্বাস খেয়াল করুন।

জ্বর হলে কি শিশুকে গোসল করানো যাবে?

স্বাভাবিক কুসুম গরম পানিতে অল্প সময়ে গা ধুইয়ে দিতে পারেন যদি শিশু আরাম পায়। তবে জ্বর কমানোর জন্য ঠান্ডা পানিতে গা মোছা বা ভেজা কাপড় চাপানো উচিত নয়।

শিশুর জ্বরের ওষুধ কতটুকু দেব?

এটা শিশুর বয়স ও ওজনের ওপর নির্ভর করে, তাই নিজে থেকে মাত্রা ঠিক করবেন না। ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টকে জিজ্ঞেস করে নিন, আর ৩ মাসের কম শিশুকে ওষুধ দেওয়ার আগে অবশ্যই ডাক্তার দেখান।

অসুস্থ দিনে শিশুর আরামের জিনিস খুঁজছেন? দেখুন আমাদের বেবি কেয়ার কালেকশন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

WhatsApp-এ কথা বলুন