ডেঙ্গু মৌসুমে শিশুকে মশা থেকে রক্ষা করবেন কীভাবে

Baby Safety

বর্ষা এলেই বাংলাদেশে ডেঙ্গুর দুশ্চিন্তা বাড়ে, আর ঘরে ছোট শিশু থাকলে সেই দুশ্চিন্তা দ্বিগুণ হয়। শিশু নিজে মশা তাড়াতে পারে না, কামড় খেলে বলতেও পারে না। তাই শিশুকে মশা থেকে রক্ষা করার দায়িত্ব পুরোটাই মা-বাবা আর পরিবারের।

এই লেখায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র (CDC) এবং আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিক্সের (AAP) পরামর্শের ভিত্তিতে ঘরোয়া, কাজের কিছু উপায় তুলে ধরছি।

ডেঙ্গুর মশা সম্পর্কে যা জানা জরুরি

WHO জানাচ্ছে, ডেঙ্গু ছড়ায় মূলত সংক্রমিত এডিস মশার কামড়ে, আর এই মশা দিনের বেলায় সক্রিয় থাকে (WHO)। অর্থাৎ শুধু রাতে মশারি টাঙালেই চলবে না, দিনের ঘুম আর খেলার সময়েও সুরক্ষা লাগবে।

এই মশা পানি জমে থাকে এমন পাত্রে বংশবৃদ্ধি করে। ফুলের টব, ফেলে রাখা বোতল, টায়ার, এসির পানি, এসব জায়গা তাই সবচেয়ে বড় বিপদ।

শিশুকে মশা থেকে রক্ষা করার ঘরোয়া উপায়

১. দিনে ও রাতে মশারি

WHO দিনের বেলায় ঘুমানোর সময়েও মশারি ব্যবহারের পরামর্শ দেয় (WHO)। শিশু দিনে কয়েকবার ঘুমায়, তাই প্রতিবারই মশারির ভেতরে শোয়ান।

আমাদের ফোল্ডিং বেবি মশারি স্টিল ফ্রেমে দাঁড়ায়, তাই দিনের ঘুমে ঝটপট খুলে বসানো যায়। মশারি দেওয়ার আগে ভেতরে কোনো মশা ঢুকে আছে কি না দেখে নিন, আর খেয়াল রাখুন কাপড় যেন শিশুর মুখের ওপর না পড়ে।

২. শরীর ঢাকা পোশাক

CDC শিশুর হাত ও পা ঢেকে রাখে এমন পোশাক পরানোর কথা বলে (CDC)। গরমে মোটা কাপড় নয়, পাতলা সুতির ফুলহাতা জামা আর পায়জামা বেছে নিন। AAP আরও বলছে, উজ্জ্বল রং ও ফুলেল ছাপ পোকামাকড়কে আকর্ষণ করতে পারে (AAP)।

৩. বাইরে গেলে ক্যারিয়ার ও স্ট্রলার ঢাকুন

CDC স্ট্রলার আর বেবি ক্যারিয়ার মশারির জাল দিয়ে ঢেকে রাখতে বলে (CDC)। আমাদের বেবি ক্যারিয়ার ব্যাগ ব্যবহার করলে বাইরে, বিশেষ করে বিকেলে পার্ক বা খোলা জায়গায় গেলে, এই সতর্কতা মনে রাখুন। জাল দিলেও শিশুর মুখ যেন দেখা যায় এবং বাতাস চলাচল ঠিক থাকে।

৪. জানালা ও দরজায় নেট

WHO জানালায় স্ক্রিন বা নেট লাগানোর পরামর্শ দিয়েছে (WHO)। সন্ধ্যার আগে দরজা-জানালা বন্ধ রাখার অভ্যাসও কাজে দেয়।

জমে থাকা পানি সরান, সপ্তাহে একবার

মশা মারার চেয়ে মশা জন্মাতে না দেওয়া সহজ। CDC সপ্তাহে একবার ঘরের ভেতরে ও বাইরে পানি ধরে রাখে এমন সব জিনিস খালি করে ঘষে পরিষ্কার করতে, উল্টে রাখতে, ঢেকে রাখতে বা ফেলে দিতে বলে (CDC)।

  • ফুলের টবের নিচের প্লেট
  • ফ্রিজ ও এসির পানি জমার ট্রে
  • ছাদের ড্রাম, বালতি ও পানির ট্যাংক (ঢাকনা দিয়ে রাখুন)
  • ফেলে রাখা বোতল, ক্যান, ডাবের খোসা ও পুরনো টায়ার
  • বাথরুমের কোণে জমে থাকা বালতির পানি

যৌথ পরিবারে বা ফ্ল্যাট বাড়িতে একজন করলে হবে না, কারণ পাশের বারান্দার টবের পানিতেও মশা জন্মাতে পারে। প্রতিবেশী আর বাড়ির সবাইকে নিয়ে একটা নির্দিষ্ট দিন ঠিক করুন, যেমন প্রতি শুক্রবার।

মশা তাড়ানোর ক্রিম বা স্প্রে: বয়স বুঝে

রিপেলেন্ট ব্যবহারের আগে সবসময় প্যাকেটের নির্দেশনা পড়ুন (CDC)। AAP ও CDC দুটোই বলছে, অয়েল অব লেমন ইউক্যালিপটাস (OLE) বা PMD আছে এমন পণ্য তিন বছরের কম বয়সী শিশুর গায়ে দেওয়া যাবে না (AAP)।

AAP আরও বলছে, নবজাতক ও অকালে জন্মানো শিশুর ক্ষেত্রে মা-বাবাকে বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে। তাই ছোট শিশুর জন্য রিপেলেন্ট বাছাইয়ের আগে শিশু-বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলুন। ব্যবহার করলে এই নিয়মগুলো মানুন:

  1. শিশুর হাতে লাগাবেন না, কারণ সে হাত মুখে দেয়।
  2. মুখে লাগাতে হলে আগে নিজের হাতে নিয়ে তারপর আলতো করে মুখে দিন, চোখ ও মুখ বাদ দিয়ে।
  3. কাটা বা জ্বালা করা ত্বকে দেবেন না।
  4. কাপড়ের নিচে নয়, শুধু খোলা ত্বকে ও কাপড়ের ওপরে লাগান।
  5. ঘরে ফিরে ত্বক ধুয়ে ফেলুন (AAP)।

ডেঙ্গুর লক্ষণ চিনে রাখুন

WHO অনুযায়ী ডেঙ্গুর সাধারণ লক্ষণ হলো তীব্র জ্বর, মাথাব্যথা, শরীরে ব্যথা, বমি বমি ভাব, বমি ও র‍্যাশ (WHO)। ছোট শিশু ব্যথার কথা বলতে পারে না, তাই খুব খিটখিটে হয়ে যাওয়া, খেতে না চাওয়া বা অতিরিক্ত ঘুমঘুম ভাব খেয়াল করুন।

WHO আরও সতর্ক করছে, গুরুতর লক্ষণ অনেক সময় জ্বর কমে যাওয়ার পরে দেখা দেয়। তাই জ্বর নামলেই নিশ্চিন্ত হবেন না।

কখন ডাক্তার দেখাবেন: শিশুর জ্বর হলেই ডাক্তার দেখান, নিজে থেকে ওষুধ দেবেন না। WHO জানিয়েছে, আইবুপ্রোফেন ও অ্যাসপিরিন জাতীয় ওষুধ ডেঙ্গুতে রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। পেটে তীব্র ব্যথা, বারবার বমি, দ্রুত শ্বাস, মাড়ি বা নাক দিয়ে রক্ত, বমি বা পায়খানায় রক্ত, অস্থিরতা, খুব দুর্বলতা কিংবা ত্বক ফ্যাকাশে ও ঠান্ডা হলে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিন (WHO)।

সাধারণ প্রশ্ন

শুধু রাতে মশারি দিলে কি যথেষ্ট?

না। ডেঙ্গুর এডিস মশা দিনের বেলায় কামড়ায়, তাই দিনের প্রতিটি ঘুমেও শিশুকে মশারির ভেতরে রাখুন।

কয়েল বা ইলেকট্রিক মশা তাড়ানোর যন্ত্র কি শিশুর ঘরে চালানো যায়?

WHO কয়েল ও ভেপোরাইজারকে সুরক্ষার একটা উপায় হিসেবে উল্লেখ করেছে, তবে ছোট শিশুর ঘরে কোন পণ্য নিরাপদ তা ডাক্তারের কাছে জেনে নিন এবং প্যাকেটের নির্দেশনা মানুন। শিশুর জন্য মশারিই সবচেয়ে সহজ ও নির্ভরযোগ্য সমাধান।

শিশুর জ্বর হলে কি প্যারাসিটামল দেওয়া যায়?

WHO ডেঙ্গুতে ব্যথা কমাতে প্যারাসিটামলের কথা বলেছে, কিন্তু শিশুর ক্ষেত্রে মাত্রা ঠিক করবেন ডাক্তার। নিজে থেকে কোনো ওষুধ দেবেন না।

মশারিসহ শিশুর প্রথম বছরের দরকারি জিনিস পাবেন আমাদের ০-১২ মাস সংগ্রহে।

1 Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

WhatsApp-এ কথা বলুন