
শিশুর সঙ্গে খেলা মানেই দামি খেলনা কেনা নয়। প্রথম এক বছরে আপনার মুখ, কণ্ঠ আর কোলই শিশুর সবচেয়ে প্রিয় খেলার জিনিস। এই লেখায় বয়স ধরে ধরে সহজ কিছু আইডিয়া দিলাম, যেগুলো ঢাকার ছোট ফ্ল্যাট বা গ্রামের বাড়ি, দুই জায়গাতেই করা যায়।
কেন এত ছোট বয়সে খেলা দরকার
নবজাতক দেখে, শোনে আর ছুঁয়ে পৃথিবীকে চিনতে শেখে। আপনি যখন তার দিকে তাকিয়ে কথা বলেন বা তার আওয়াজ নকল করেন, তখন সে বুঝতে শেখে যে কেউ তার কথায় সাড়া দিচ্ছে। এই আদান-প্রদানই তার শেখার ভিত।
যুক্তরাষ্ট্রের CDC শিশুর বেড়ে ওঠার ধাপগুলোকে খেলা, শেখা, কথা বলা, আচরণ আর নড়াচড়া, এই কয়েক ভাগে দেখায় (CDC)। প্রতিটি বয়সের জন্য তাদের আলাদা তালিকা আর খেলার পরামর্শও আছে, যা মিলিয়ে দেখলে বোঝা যায় শিশু কোন দিকে এগোচ্ছে।
টামি টাইম: প্রথম দিন থেকেই
শিশু জেগে থাকা অবস্থায় তাকে কিছুক্ষণ উপুড় করে রাখাকে টামি টাইম বলে। এতে ঘাড়, কাঁধ আর হাতের পেশি শক্ত হয়, যা পরে গড়ানো আর বসার জন্য কাজে লাগে।
আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিক্স বলছে, হাসপাতাল থেকে বাড়ি আসার দিন থেকেই টামি টাইম শুরু করা যায়। শুরুতে দিনে ২–৩ বার, প্রতিবার ৩–৫ মিনিট, তারপর শিশু উপভোগ করলে ধীরে ধীরে সময় বাড়ানো যায় (HealthyChildren.org)। ঘুমানোর সময় কিন্তু শিশুকে সবসময় চিত করে শোয়াতে হবে, উপুড় করা শুধু জেগে থাকা আর বড়দের নজরের মধ্যে।
- মেঝেতে পরিষ্কার মাদুর বা ম্যাট বিছিয়ে নিন, খাটের কিনারায় নয়।
- আপনিও শিশুর সামনে শুয়ে পড়ুন, যাতে সে মুখ তুলে আপনাকে দেখতে চায়।
- কান্না শুরু করলে জোর করবেন না, পরে আবার চেষ্টা করুন।
- বড় ভাইবোন সঙ্গে খেললেও একজন বড় মানুষ পাশে থাকুন।
বয়স অনুযায়ী শিশুর সঙ্গে খেলা
নিচের টেবিলটা একটা মোটামুটি ধারণা। প্রতিটি শিশু নিজের গতিতে বাড়ে, তাই দুই-এক সপ্তাহ আগে-পরে হওয়া খুব স্বাভাবিক।
| বয়স | শিশু সাধারণত কী করে | কী খেলবেন |
|---|---|---|
| ০–৩ মাস | মুখের দিকে তাকায়, আওয়াজে সাড়া দেয় | মুখোমুখি কথা, সাদা-কালো ছবি দেখানো, ছোট টামি টাইম |
| ৩–৬ মাস | হাসে, হাত বাড়িয়ে ধরতে চায় | ঝুনঝুনি নাড়ানো, আয়নায় মুখ দেখানো, ছড়া গাওয়া |
| ৬–৯ মাস | গড়ায়, সাহায্য নিয়ে বসে, সব মুখে দেয় | হাতের নাগালের বাইরে খেলনা রাখা, জিনিসের নাম বলা |
| ৯–১২ মাস | হামাগুড়ি দেয়, লুকানো জিনিস খোঁজে | কাপড়ের নিচে খেলনা লুকানো, হাততালি, বল গড়ানো |
০–৩ মাস: মুখ আর আওয়াজ
এই বয়সে শিশু খুব কাছের জিনিস ভালো দেখে, আর গাঢ় রঙের তফাত সহজে ধরে। কাগজে মোটা কালো দাগ বা চেক এঁকে তার চোখের সামনে কিছুক্ষণ ধরুন। বিছানার ওপর ঝোলানো আমাদের বেবি বেড বেল মিউজিক বক্স জেগে থাকার সময় চোখ দিয়ে জিনিস অনুসরণ করার একটা মজার উপায় হতে পারে।
৩–৬ মাস: ধরা আর হাসি
এখন শিশু হাত বাড়িয়ে জিনিস ধরতে চায় আর আওয়াজ শুনে মাথা ঘোরায়। CDC-র ৬ মাসের তালিকায় শিশুর আওয়াজ নকল করে পালা করে “কথা বলা”, রঙিন ছবি দেখা আর মেঝেতে খেলার কথা বলা আছে (CDC)। মেঝের খেলার জন্য আমাদের ৫-ইন-১ বেবি পিয়ানো প্লে জিম ম্যাট শিশুকে শুয়ে শুয়ে হাত-পা ছোড়ার একটা নিজস্ব জায়গা দেয়।
৬–৯ মাস: মুখে দেওয়া আর কারণ-ফল
এই বয়সে শিশু যা পায় তাই মুখে দেয়, এটা তার শেখারই অংশ। তাই খেলনা হতে হবে বড়, শক্ত আর পরিষ্কার। হাত থেকে খেলনা ফেলে দিলে আবার তুলে দিন, সে বুঝতে শেখে যে ফেললে নিচে পড়ে। আমাদের Huanger বেবি ঝুনঝুনি ও টিদার সেট ৫ পিস – BPA-ফ্রি নাড়িয়ে শব্দ করা আর ধরা, দুটোরই সুযোগ দেয়।
৯–১২ মাস: লুকোচুরি আর নকল
ওড়না দিয়ে মুখ ঢেকে “টুকি” খেলা এই বয়সে সবচেয়ে জনপ্রিয়। একটা খেলনা কাপড়ের নিচে লুকিয়ে খুঁজতে দিন। হাততালি, টা-টা দেওয়া আর বল গড়িয়ে দেওয়ার মতো সহজ খেলায় শিশু আপনাকে নকল করতে শেখে।
যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন
- ছোট জিনিস হাতের কাছে রাখা: বোতাম, কয়েন, ছোট টুকরো আর বোতাম ব্যাটারি শিশুর নাগালের বাইরে রাখুন, এগুলো গলায় আটকাতে পারে (NHS)।
- মোবাইলে কার্টুন দিয়ে শান্ত রাখা: CDC বলছে ২ বছরের আগে স্ক্রিন টাইম পরামর্শযোগ্য নয়, শুধু আত্মীয়ের সঙ্গে ভিডিও কল ছাড়া (CDC)। স্ক্রিনের বদলে আপনার সঙ্গে কথা আর খেলাই শিশুর বেশি কাজে আসে।
- ক্লান্ত শিশুকে জোর করে খেলানো: হাই তোলা, মুখ ফিরিয়ে নেওয়া বা কাঁদা মানে বিরতি দরকার।
- বড়দের খেলনা দেওয়া: বড় ভাইবোনের ছোট পার্টসওয়ালা খেলনা আলাদা করে রাখুন।
গরমের দিনে বা লোডশেডিংয়ের সময় খেলা ছোট রাখুন, শিশু ঘেমে গেলে বিশ্রাম দিন। যৌথ পরিবারে দাদা-দাদি বা নানা-নানির গাওয়া ছড়াও দারুণ খেলা।
কখন ডাক্তার দেখাবেন: শিশু যদি বয়স অনুযায়ী আওয়াজে সাড়া না দেয়, চোখে চোখ না রাখে, বা আগে পারা কোনো কাজ আর না পারে, তাহলে শিশু বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলুন।
সাধারণ প্রশ্ন
নবজাতকের সঙ্গে দিনে কতক্ষণ খেলা উচিত?
নির্দিষ্ট কোনো ঘড়ি ধরা সময় নেই। শিশু জেগে আর শান্ত থাকলে কয়েক মিনিটের ছোট ছোট খেলাই যথেষ্ট, আর বিরক্ত হলে থেমে যান।
খেলনা ছাড়া কীভাবে খেলব?
আপনার মুখ, গান, ছড়া আর ঘরের নিরাপদ জিনিস, যেমন পরিষ্কার ওড়না বা বড় প্লাস্টিকের বাটি, দিয়েই অনেক খেলা হয়। শিশুর কাছে আপনার মনোযোগই সবচেয়ে বড় খেলনা।
শিশু টামি টাইমে কাঁদলে কী করব?
সময় খুব ছোট রাখুন আর আপনার বুকের ওপর উপুড় করে শুইয়েও শুরু করতে পারেন। ধীরে ধীরে সে অভ্যস্ত হয়ে যায়।
প্রথম বছরের খেলার জিনিস দেখতে ঘুরে আসুন আমাদের ০–১২ মাস কালেকশনে।
