
ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়ি যাওয়া, লঞ্চে বরিশাল, কিংবা বাসে চট্টগ্রাম, শিশুকে নিয়ে বেড়াতে গেলে সবচেয়ে বড় চিন্তা থাকে খাবার নিয়ে। বাইরে শিশুর খাবার কীভাবে নেবেন, কতক্ষণ রাখা যাবে, আর পথে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কীভাবে বজায় রাখবেন, এই লেখায় সেটাই ধাপে ধাপে দেখব। আমাদের গরম আবহাওয়ায় খাবার খুব দ্রুত নষ্ট হয়, তাই একটু আগে থেকে পরিকল্পনা করা দরকার।
বুকের দুধ: ভ্রমণে সবচেয়ে সহজ খাবার
ছয় মাসের কম বয়সী শিশুর জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা শুধু বুকের দুধের পরামর্শ দেয়, এমনকি পানিও নয় (WHO)। ভ্রমণে এর বড় সুবিধা হলো, আলাদা করে কিছু বহন করতে বা পরিষ্কার করতে হয় না।
বাস বা লঞ্চে আরামে খাওয়ানোর জন্য একটা বড় ওড়না বা হালকা চাদর সঙ্গে রাখুন। লঞ্চে কেবিন নিলে খাওয়ানো আরও সহজ হয়। ছয় মাসের পরেও বাড়তি খাবারের পাশাপাশি বুকের দুধ চালিয়ে গেলে পথে শিশু কম খেলেও ততটা দুশ্চিন্তা থাকে না।
বাইরে শিশুর খাবার নেওয়ার আগে পরিকল্পনা
বাড়তি খাবার খাওয়া শিশুর জন্য বের হওয়ার আগে কয়েকটা প্রশ্নের উত্তর ভেবে নিন। কত ঘণ্টার যাত্রা, পথে খাবার গরম করার সুযোগ আছে কি না, আর পৌঁছে কোথায় রান্না করা যাবে।
যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র বলছে, দ্রুত নষ্ট হয় এমন খাবার দুই ঘণ্টার বেশি বাইরে রাখা উচিত নয়। আর বাইরের তাপমাত্রা ৩২°C এর বেশি হলে এই সময় মাত্র এক ঘণ্টা (CDC)। বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালে বাসের ভেতর বা লঞ্চের ডেকে তাপমাত্রা এর চেয়ে বেশিও হতে পারে। তাই রান্না করা খিচুড়ি বা ডাল-ভাত লম্বা যাত্রায় সঙ্গে নেওয়ার আগে দুবার ভাবুন।
কী কী খাবার সঙ্গে নেবেন
লম্বা যাত্রায় এমন খাবার বেছে নিন যা সহজে নষ্ট হয় না, অথবা খাওয়ার ঠিক আগে প্রস্তুত করা যায়।
- আস্ত পাকা কলা, যা খাওয়ানোর ঠিক আগে ছিলে চটকে নেওয়া যায়
- আস্ত পাকা পেঁপে বা আম, পথে পরিষ্কার ছুরিতে কেটে নেওয়া যায়
- শিশুর বয়স উপযোগী শুকনো খাবার, যেমন ঘরে বানানো চালের গুঁড়া বা সুজি, যা গরম পানিতে মিশিয়ে নেওয়া যায়
- স্বল্প যাত্রায় বের হওয়ার ঠিক আগে রান্না করা খাবার, পরিষ্কার ঢাকনাওয়ালা পাত্রে
কাটা ফল, রাস্তার ধারের খাবার আর খোলা জুস শিশুকে দেবেন না। শক্ত লজেন্স, আস্ত বাদাম বা আস্ত আঙুরের মতো খাবারও দেবেন না। CDC শিশুকে সোজা করে বসিয়ে, মনোযোগ দিয়ে খাওয়াতে বলে, আর স্ট্রলার বা গাড়ির সিটে বসিয়ে খাওয়াতে নিষেধ করে (CDC)।
খাবার বহনের পাত্র ও প্যাকিং
ভালো পাত্র খাবার পরিষ্কার রাখতে অনেক সাহায্য করে।
- প্রতিটা খাবারের জন্য আলাদা পরিষ্কার, ঢাকনাওয়ালা পাত্র নিন।
- পাত্র আগের রাতেই ধুয়ে শুকিয়ে রাখুন।
- খাবার একবেলার পরিমাণে ভাগ করে নিন, যাতে বাড়তি খাবার রেখে দিতে না হয়।
- খাবারের পাত্র আর ময়লা ডায়াপারের ব্যাগ আলাদা জায়গায় রাখুন।
আমাদের ঢাকনাসহ ফুড গ্রেড স্টিল বেবি ফুড বক্স চামচসহ আসে, দাম ৳৩৭০। অল্প পরিমাণে নরম খাবার খাওয়ানোর জন্য দেখতে পারেন সিলিকন বেবি ফুড ডিসপেন্সিং স্পুন ও ট্রাভেল ট্রেনিং বোতল সেট, দাম ৳২১০।
সব জিনিস গুছিয়ে রাখতে আমাদের মাদার ব্যাগ / ডায়াপার ব্যাকপ্যাক কাজে লাগতে পারে। এটি ওয়াটারপ্রুফ এবং এতে ইনসুলেটেড বোতল পকেট আছে, দাম ৳১৩৭০। বর্ষায় লঞ্চঘাটে বা বৃষ্টিতে বাস থেকে নামার সময় ওয়াটারপ্রুফ ব্যাগ বেশ সুবিধা দেয়।
পথে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন
ভ্রমণে সবচেয়ে বেশি অবহেলা হয় হাত ধোয়ায়। CDC বলছে, খাবার প্রস্তুতের আগে ও পরে অন্তত ২০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে (CDC)।
- ছোট একটা সাবান বা লিকুইড সোপ আর বাসা থেকে ফুটিয়ে ঠান্ডা করা পানির বোতল সঙ্গে রাখুন।
- শিশুর চামচ আর বাটি একটা পরিষ্কার জিপ ব্যাগে আলাদা রাখুন।
- খাওয়ানোর পর বাকি খাবার ফেলে দিন, পরের বেলার জন্য রেখে দেবেন না।
- চামচ মেঝেতে পড়ে গেলে ধোয়া ছাড়া আবার ব্যবহার করবেন না।
- খাওয়ার পানি নিয়ে নিশ্চিত না হলে বাসার ফোটানো পানিই ব্যবহার করুন।
গ্রামের বাড়িতে বা আত্মীয়ের বাসায়
পৌঁছানোর পর আত্মীয়রা আদর করে শিশুকে মিষ্টি, পিঠা বা মধু খাওয়াতে চান। ভালোবাসাটা বুঝি, কিন্তু এক বছরের আগে মধু দেওয়া উচিত নয় (NHS)। নম্রভাবে সবাইকে জানিয়ে রাখুন শিশু কী খায়, কী খায় না।
গ্রামে রান্নার সময় শিশুর খাবার আলাদা ছোট পাতিলে টাটকা রান্না করে নিন। CDC অনুযায়ী, রান্না করা খাবার ঠান্ডা করার দরকার হলে দুই ঘণ্টার মধ্যে ফ্রিজে তুলুন, আর গরমে এক ঘণ্টার মধ্যে (CDC)। লোডশেডিংয়ে ফ্রিজ বন্ধ থাকলে শিশুর জন্য পুরনো খাবার না রেখে প্রতিবেলা অল্প করে রান্না করাই নিরাপদ।
কখন ডাক্তার দেখাবেন: ভ্রমণের সময় বা পরে শিশুর বারবার পাতলা পায়খানা, বমি, জ্বর, খুব কম প্রস্রাব বা নিস্তেজ ভাব দেখা দিলে দেরি না করে কাছের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বা শিশু বিশেষজ্ঞের কাছে যান।
সাধারণ প্রশ্ন
রান্না করা খিচুড়ি কতক্ষণ বাইরে রাখা যায়?
CDC অনুযায়ী দ্রুত নষ্ট হয় এমন খাবার দুই ঘণ্টার বেশি বাইরে রাখা উচিত নয়, আর তাপমাত্রা ৩২°C এর বেশি হলে এক ঘণ্টার বেশি নয়। গরমের দিনে লম্বা যাত্রায় তাই রান্না করা খাবার না নেওয়াই ভালো।
বাস বা লঞ্চে শিশুকে খাওয়ানোর সময় কী খেয়াল রাখব?
শিশুকে কোলে সোজা করে বসিয়ে খাওয়ান, আর খুব ঝাঁকুনির সময় খাওয়ানো বন্ধ রাখুন। খাওয়ানোর আগে হাত ধুয়ে নিন এবং নরম, সহজে গেলা যায় এমন খাবার দিন।
ছয় মাসের কম বয়সী শিশুর জন্য পথে পানি নিতে হবে?
শুধু বুকের দুধ খাওয়া ছয় মাসের কম বয়সী শিশুর জন্য WHO আলাদা পানির পরামর্শ দেয় না। গরমে শিশুকে বারবার বুকের দুধ খাওয়ান, আর কোনো চিন্তা থাকলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
ভ্রমণে শিশুর খাওয়ার জিনিস গুছিয়ে নিতে দেখুন আমাদের ফিডিং কালেকশন।

1 Comment