
শিশুর খাবার সংরক্ষণের মূল নিয়ম হলো রান্নার পর এক থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যে ঠান্ডা করে ফ্রিজে রাখা এবং দুই দিনের মধ্যে খাইয়ে ফেলা। ভাত বা খিচুড়ি এক ঘণ্টার মধ্যে ফ্রিজে তুলুন আর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শেষ করুন। গরম করবেন একবারই, ভেতর পর্যন্ত ভাপ ওঠা গরম করে, তারপর সহনীয় তাপমাত্রায় ঠান্ডা করে খাওয়াবেন।
কর্মজীবী মা-বাবা বা ব্যস্ত পরিবারে প্রতি বেলা নতুন করে রান্না করা সবসময় সম্ভব হয় না। একবারে একটু বেশি খিচুড়ি বা সবজির পিউরি বানিয়ে রাখা তাই খুব কাজের। শুধু কয়েকটা নিয়ম মেনে চললেই খাবারটা নিরাপদ থাকে।
শিশুর খাবার সংরক্ষণ: রান্নার পর প্রথম দুই ঘণ্টা
রান্না করা খাবার যত দ্রুত সম্ভব ঠান্ডা করুন, আদর্শভাবে এক থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যে, তারপর ফ্রিজ বা ফ্রিজারে রাখুন (NHS)। রান্না করা ভাত হলে এক ঘণ্টার মধ্যে ঠান্ডা করে ফ্রিজে তুলুন।
আমাদের দেশের গরমে এটা আরও জরুরি। সিডিসি বলে, ৯০ ডিগ্রি ফারেনহাইট (প্রায় ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস) এর বেশি তাপমাত্রায় পচনশীল খাবার এক ঘণ্টার মধ্যেই ফ্রিজে তোলা উচিত (CDC)। গ্রীষ্মকালে রান্নাঘরের তাপমাত্রা প্রায়ই এর বেশি থাকে।
দ্রুত ঠান্ডা করার উপায়:
- বড় হাঁড়িতে না রেখে খাবার ছোট ছোট অগভীর বাটিতে ভাগ করুন।
- বাটিসহ খাবার ঠান্ডা পানির গামলায় বসিয়ে দিন, মাঝে মাঝে নাড়ুন।
- খুব গরম অবস্থায় সরাসরি ফ্রিজে ঢোকাবেন না, এতে ফ্রিজের ভেতরের অন্য খাবারও গরম হয়ে যায় (NHS)।
ফ্রিজে কতদিন রাখা যায়
| খাবার | কোথায় রাখবেন | কতদিনের মধ্যে খাওয়াবেন |
|---|---|---|
| রান্না করা খিচুড়ি, ডাল, সবজি, মাছ | ফ্রিজ | ২ দিন |
| রান্না করা ভাত | ফ্রিজ | ২৪ ঘণ্টা |
| ফ্রিজার থেকে বের করে গলানো খাবার | ফ্রিজ | ২৪ ঘণ্টা |
| শিশুর প্লেটে খেয়ে বাকি থাকা খাবার | কোথাও না | ফেলে দিন |
ফ্রিজের তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা প্রায় ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস অথবা তার নিচে রাখুন, আর ফ্রিজার শূন্য ডিগ্রি ফারেনহাইট বা প্রায় মাইনাস ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে (CDC)।
প্রতিটি বাটিতে রান্নার তারিখ লিখে রাখুন। মাস্কিং টেপে লিখে লাগালেই চলে। কাঁচা মাছ-মাংস ঢাকনা দেওয়া পাত্রে ফ্রিজের নিচের তাকে রাখুন, যাতে রস গড়িয়ে রান্না করা খাবারে না পড়ে।
পিউরি ফ্রিজ করার নিয়ম
একসঙ্গে মিষ্টিকুমড়া, গাজর বা আলুর পিউরি বানিয়ে ছোট ছোট ভাগে ফ্রিজারে রাখা যায়। একবারে যতটুকু খাবে, ততটুকু করে ভাগ করুন, যাতে বারবার গলিয়ে আবার জমাতে না হয়।
- ঢাকনা দেওয়া পরিষ্কার পাত্র বা ফুড-গ্রেড বাক্স ব্যবহার করুন। আমাদের Food Grade Steel Box with Spoon – ঢাকনাসহ বেবি ফুড বক্স এমন একটা বিকল্প।
- পাত্রের ওপর তারিখ ও খাবারের নাম লিখুন।
- গলানো খাবার আবার ফ্রিজারে জমাবেন না।
গলানো ও গরম করার নিয়ম
ফ্রিজারের খাবার ঘরের তাপমাত্রায় রেখে গলাবেন না। আগের রাতে ফ্রিজের নিচের তাকে নামিয়ে রাখুন, বা মাইক্রোওয়েভের ডিফ্রস্ট সেটিং ব্যবহার করুন। মাইক্রোওয়েভে গলালে সঙ্গে সঙ্গেই খাওয়ান।
গরম করার সময় মনে রাখুন (NHS):
- শুধু যতটুকু খাওয়াবেন ততটুকু আলাদা বাটিতে নিন।
- খাবার ভেতর পর্যন্ত ভাপ ওঠা গরম করুন।
- মাইক্রোওয়েভে গরম করলে ভালো করে নেড়ে দিন, কারণ ভেতরে কোথাও কোথাও বেশি গরম থাকে।
- সহনীয় তাপমাত্রায় ঠান্ডা করুন, নিজের হাতের কব্জিতে বা ঠোঁটে ছুঁইয়ে পরীক্ষা করুন।
- রান্না করা খাবার একবারের বেশি গরম করবেন না।
শিশুর মুখে যে চামচ গেছে, সেটা বড় পাত্রে আবার ডোবাবেন না। খাওয়ানোর জন্য আলাদা নরম চামচ রাখুন, যেমন Baby Feeding Spoon – Soft Handle। শিশুর প্লেটের বাকি খাবার রেখে দিয়ে পরে আবার খাওয়াবেন না।
লোডশেডিং হলে কী করবেন
বাংলাদেশে লোডশেডিং বা বিদ্যুৎ বিভ্রাট অনেক পরিবারের নিত্যদিনের সমস্যা। দরজা বন্ধ রাখলে ফ্রিজ প্রায় চার ঘণ্টা খাবার নিরাপদ রাখতে পারে। ভরা ফ্রিজার প্রায় ৪৮ ঘণ্টা আর অর্ধেক ভরা ফ্রিজার প্রায় ২৪ ঘণ্টা ঠান্ডা থাকে (CDC)।
- বিদ্যুৎ গেলে ফ্রিজের দরজা যতটা সম্ভব কম খুলুন।
- চার ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ না থাকলে ফ্রিজে রাখা রান্না করা খাবার, দুধ, মাছ-মাংস শিশুকে দেবেন না।
- ফ্রিজারে কয়েকটা পানির বোতল জমিয়ে রাখুন, এতে ফ্রিজার বেশিক্ষণ ঠান্ডা থাকে।
- সন্দেহ হলে খাবার ফেলে দিন। শিশুর খাবার চেখে বা গন্ধ শুঁকে নিরাপদ কি না ঠিক করবেন না।
যেসব এলাকায় লোডশেডিং বেশি, সেখানে বড় ব্যাচ রান্না না করে এক দিনের খাবার রান্না করাই ভালো।
বাইরে নিয়ে গেলে
রান্না করা খাবার বাইরে নিতে হলে জমানো পানির বোতল বা আইস প্যাকের সঙ্গে ইনসুলেটেড ব্যাগে রাখুন। আমাদের মাদার ব্যাগ / ডায়াপার ব্যাকপ্যাক-এ ইনসুলেটেড বোতল পকেট আছে। বেড়াতে যাওয়ার বিস্তারিত পাবেন বাইরে শিশুর খাবার কীভাবে নেবেন লেখায়।
খাবার বানানো ও খাওয়ানোর আগে হাত সাবান দিয়ে ধুয়ে নিন, আর শিশুর বাটি-চামচ গরম সাবান পানিতে ভালো করে পরিষ্কার করুন।
কখন ডাক্তার দেখাবেন: খাবার খাওয়ার পর শিশুর বারবার বমি, পাতলা পায়খানা, জ্বর, পায়খানায় রক্ত, কিংবা প্রস্রাব কমে যাওয়া ও নিস্তেজ ভাব দেখা দিলে দেরি না করে ডাক্তার দেখান।
সাধারণ প্রশ্ন
বাচ্চার খিচুড়ি ফ্রিজে কতদিন রাখা যায়?
রান্নার পর এক ঘণ্টার মধ্যে ঠান্ডা করে ফ্রিজে রাখলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খাইয়ে ফেলুন, কারণ এতে ভাত থাকে। বেশিদিন রাখতে চাইলে ছোট ভাগে ফ্রিজারে রাখুন।
শিশুর খাবার কি বারবার গরম করা যায়?
না, রান্না করা খাবার একবারই গরম করুন। তাই প্রতিবার শুধু যতটুকু খাওয়াবেন ততটুকু গরম করুন।
সকালের রান্না কি রাতে শিশুকে খাওয়ানো যায়?
রান্নার পর দ্রুত ঠান্ডা করে ফ্রিজে রাখলে খাওয়ানো যায়, তবে একবার ভালো করে গরম করে নিন। গরমের দিনে ঘরের তাপমাত্রায় সারা দিন রেখে দেওয়া খাবার শিশুকে দেবেন না।
শিশুর খাবার রাখা ও খাওয়ানোর জিনিস দেখুন আমাদের ফিডিং কালেকশনে।
