
বাচ্চা খেতে চায় না, এটা দুই থেকে পাঁচ বছরের শিশুদের মধ্যে খুবই সাধারণ একটা পর্যায়, আর বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই চিন্তার কিছু নেই। জোর করে না খাইয়ে নির্দিষ্ট সময়ে অল্প অল্প খাবার দিন, শিশুর খিদে ও পেট ভরার সংকেত মেনে চলুন, আর খাওয়ার সময় মোবাইল বা টিভি বন্ধ রাখুন। শিশু যদি চঞ্চল থাকে আর ওজন ঠিকমতো বাড়ে, তবে সে সাধারণত যথেষ্ট খাচ্ছে।
প্রতিদিন খাওয়ার সময়টা যুদ্ধের মতো হয়ে যায় অনেক পরিবারে। মা এক চামচ নিয়ে পেছন পেছন ছোটেন, দাদি বলেন কার্টুন ছেড়ে দাও, তাহলে খাবে। চলুন দেখি কেন শিশু এমন করে, আর কোন অভ্যাসগুলো সত্যিই কাজ করে।
কেন বাচ্চা খেতে চায় না
এক বছরের পর শিশুর বৃদ্ধির গতি প্রথম বছরের তুলনায় কমে আসে, তাই খিদেও অনেক সময় কম লাগে। এই বয়সে শিশু নিজের পছন্দ-অপছন্দ বোঝাতে শেখে, আর নতুন স্বাদ নিয়ে সন্দেহ করা খুব স্বাভাবিক।
আরও কিছু সাধারণ কারণ:
- খাবারের আগে বিস্কুট, চিপস, জুস বা বেশি দুধ খেয়ে পেট ভরে থাকা।
- দাঁত ওঠার অস্বস্তি। এ নিয়ে পড়তে পারেন শিশুর প্রথম দাঁত ওঠা লেখায়।
- খুব ক্লান্ত বা খুব বেশি খিদে নিয়ে খেতে বসা।
- সর্দি-জ্বর বা অসুস্থতা।
- খাওয়ার সময় বকাঝকা বা চাপ, যাতে খাওয়াটাই শিশুর কাছে অপ্রিয় হয়ে যায়।
রেসপনসিভ ফিডিং: শিশুর সংকেত বুঝে খাওয়ানো
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা রেসপনসিভ ফিডিংয়ের কথা বলে, মানে শিশুর খিদে ও পেট ভরার সংকেত চিনে সেই অনুযায়ী সাড়া দেওয়া (WHO)। ইউনিসেফও বলে, জোর করে খাওয়াবেন না, পেট ভরার লক্ষণ দেখলে থামুন (UNICEF)।
পেট ভরার সাধারণ লক্ষণ:
- মুখ ফিরিয়ে নেওয়া বা ঠোঁট চেপে রাখা।
- চামচ ঠেলে সরিয়ে দেওয়া।
- খাবার নিয়ে খেলা শুরু করা বা চেয়ার থেকে নামতে চাওয়া।
কতটা খাবে, সেটা শিশুকে ঠিক করতে দিন। কী খাবার, কখন আর কোথায় দেবেন, সেটা আপনি ঠিক করুন। এই ভাগাভাগিটা মেনে চললে খাওয়ার সময়ের টানাপোড়েন অনেক কমে।
জোর করে খাওয়ানো কেন নয়
মুখ চেপে খাওয়ানো, ভয় দেখানো বা শাস্তি দেওয়া শিশুকে সেই খাবার থেকে আরও দূরে সরিয়ে দিতে পারে (AAP)। জোর করলে বমি বা গলায় আটকে যাওয়ার ভয়ও থাকে।
উল্টো দিকে, খাবারকে পুরস্কার হিসেবে ব্যবহার করাও ঠিক নয়। “সবজি খেলে চকলেট পাবে” বললে শিশু শেখে সবজি কষ্টের জিনিস আর চকলেট আসল জিনিস। শিশু অল্প খেলেও প্রশংসা করুন (NHS)।
মোবাইল-টিভি দেখিয়ে খাওয়ানো বন্ধ করুন
কার্টুন দেখালে শিশু হাঁ করে খেয়ে নেয় ঠিকই, কিন্তু সে টেরই পায় না কতটা খেল বা পেট ভরল কি না। খাওয়ার সময় টিভি ও ফোন বন্ধ রাখার পরামর্শ দেয় AAP। সবাই একসঙ্গে বসে খেলে শিশু বড়দের দেখে শেখে।
যৌথ পরিবারে এটা সবার আগে বোঝাতে হয় দাদা-দাদি বা অন্য আত্মীয়দের। সবাই একই নিয়ম মানলে শিশু দ্রুত অভ্যস্ত হয়।
খাওয়ার সময় সহজ করার কিছু উপায়
- নির্দিষ্ট রুটিন রাখুন: দিনে তিন বেলা খাবার আর দুটি স্বাস্থ্যকর নাশতা, মাঝে বারবার টুকটাক খাবার নয়।
- অল্প করে দিন: প্লেটে কম খাবার দিন, শিশু চাইলে আবার দিন। ভরা প্লেট দেখে শিশু ঘাবড়ে যায়।
- বারবার সাধুন: নতুন খাবার একবারে পছন্দ না হওয়াই স্বাভাবিক। একটা খাবার গ্রহণ করতে শিশুর দশ বা তার বেশিবার স্বাদ নেওয়া লাগতে পারে।
- পরিচিত খাবারের পাশে নতুনটা দিন: প্রিয় ডাল-ভাতের পাশে অল্প একটু নতুন সবজি।
- সময় বেঁধে দিন: আধা ঘণ্টার মতো সময় দিন, তারপর শান্তভাবে প্লেট সরিয়ে নিন। পরের খাবারের আগে বাড়তি কিছু দেবেন না।
- নিজে খেতে দিন: নিজের হাতে খেলে শিশু খাওয়ায় বেশি আগ্রহ পায়। আমাদের 2 in1 Silicone Double Feeding Spoon Set নরম সিলিকনের, BPA-মুক্ত, শিশুর নিজে খাওয়ার কথা ভেবেই বানানো। আরও টিপস পাবেন বাচ্চাকে নিজে নিজে খেতে শেখানোর সহজ উপায় লেখায়।
- রান্নায় শিশুকে সঙ্গে নিন: কলা ছিলানো বা খিচুড়ির সবজি ধোয়ায় হাত লাগালে শিশু সেই খাবার খেতে আগ্রহী হয়। খাবার চটকানোর কাজ মজা করে করতে Baby Mash Bowl – Food Grade ব্যবহার করতে পারেন।
নোংরা হবে, খাবার পড়বে, এটা মেনে নিন। জামা বাঁচাতে Baby Bib with Front Pocket পরিয়ে নিন, তাহলে আপনার দুশ্চিন্তাও কমবে।
যে ভুলগুলো এড়াবেন
- পেছন পেছন ঘুরে খাওয়ানো।
- খাবার না খেলে দুধ বা বিস্কুট দিয়ে পেট ভরানো।
- অন্য শিশুর সঙ্গে তুলনা করা।
- প্রতিদিন কতটা খেল তা নিয়ে খুব বেশি চিন্তা করা। এক সপ্তাহের গড় খাওয়া দেখুন।
কখন চিন্তার কারণ আছে
শিশু চঞ্চল থাকলে, খেলাধুলা করলে আর ওজন বাড়লে সাধারণত সে যথেষ্ট খাচ্ছে। তবে কিছু লক্ষণে অবহেলা করবেন না।
কখন ডাক্তার দেখাবেন: শিশুর ওজন কমে গেলে বা অনেক দিন না বাড়লে, খুব নিস্তেজ থাকলে, খাওয়ার সময় বারবার কাশি, বমি বা গিলতে কষ্ট হলে, হাতেগোনা অল্প কয়েকটা খাবার ছাড়া কিছুই না খেলে, কিংবা জ্বর বা ডায়রিয়ার সঙ্গে খাওয়া বন্ধ হলে শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
সাধারণ প্রশ্ন
বাচ্চার খাওয়ার রুচি বাড়ানোর উপায় কী?
খাবারের আগে নাশতা ও মিষ্টি পানীয় বন্ধ রাখুন, নির্দিষ্ট সময়ে খাবার দিন আর বাইরে খেলাধুলার সুযোগ দিন। খিদে লাগলে শিশু নিজে থেকেই বেশি খায়।
বাচ্চাকে কার্টুন দেখিয়ে খাওয়ানো কি খারাপ?
হ্যাঁ, এতে শিশু পেট ভরার সংকেত বুঝতে শেখে না এবং স্ক্রিন ছাড়া খেতে চায় না। ধীরে ধীরে স্ক্রিন সরিয়ে পরিবারের সঙ্গে বসে খাওয়ার অভ্যাস করান।
বাচ্চা শুধু দুধ খায়, ভাত খেতে চায় না, কী করব?
দুধের পরিমাণ ও সময় ঠিক করে দিন, খাবারের ঠিক আগে দুধ দেবেন না। খাবার অল্প অল্প করে সাধুন, তারপরও না খেলে শিশু বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলুন।
শিশুর খাওয়ার সময় সহজ করতে দেখুন আমাদের ফিডিং কালেকশন।
