শিশুর প্রথম দাঁত ওঠা: লক্ষণ, আরাম দেওয়ার উপায় ও যত্ন

Baby Care

শিশুর প্রথম দাঁত ওঠা প্রতিটি পরিবারের জন্য আনন্দের একটা মুহূর্ত। দাদি-নানিরা খুশি হয়ে মিষ্টি বিলান, আবার একই সময়ে শিশুর কান্না, লালা পড়া আর রাতে ঘুম না হওয়া নিয়ে মা-বাবার দুশ্চিন্তাও বাড়ে। এই লেখায় দেখে নেব দাঁত ওঠার লক্ষণ কী, কীভাবে নিরাপদে আরাম দেবেন, আর কখন বুঝবেন সমস্যাটা আসলে দাঁতের নয়।

শিশুর প্রথম দাঁত ওঠা কখন শুরু হয়

প্রত্যেক শিশু আলাদা, তাই দাঁত ওঠার সময়ও এক নয়। যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা সংস্থার তথ্যমতে, বেশিরভাগ শিশুর দাঁত ওঠা শুরু হয় ছয় মাসের আশেপাশে। তবে কারও চার মাসের আগেই, আবার কারও বারো মাসের পরে শুরু হতে পারে (NHS)।

আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিক্স বলছে, প্রথম দাঁত সাধারণত ছয় থেকে দশ মাসের মধ্যে দেখা যায়, যদিও অস্বস্তি শুরু হতে পারে তিন মাস থেকেই (AAP)। তাই পাশের বাসার সমবয়সী শিশুর দাঁত উঠে গেছে বলে চিন্তা করার কিছু নেই।

সাধারণত দাঁত ওঠার একটা মোটামুটি ক্রম থাকে:

দাঁতমোটামুটি বয়স
সামনের মাঝের দাঁতপ্রায় ৬ মাস
তার দুপাশের দাঁতপ্রায় ৮ মাস
প্রথম মাড়ির দাঁতপ্রায় ১২ মাস
কুকুর দাঁত (ক্যানাইন)প্রায় ১৮ মাস
দ্বিতীয় মাড়ির দাঁতপ্রায় ২৪ মাস

অনেক সময় নিচের দাঁত ওপরের দাঁতের আগে ওঠে। বেশিরভাগ শিশুর দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে সব দুধদাঁত উঠে যায় (NHS)।

দাঁত ওঠার সাধারণ লক্ষণ

কিছু শিশুর দাঁত ওঠে প্রায় কোনো কষ্ট ছাড়াই। আবার কারও কয়েকদিন অস্বস্তি থাকে। সাধারণ লক্ষণগুলো হলো:

  • মাড়ি লাল হয়ে ফুলে যাওয়া, যেখানে দাঁত উঠছে
  • স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি লালা পড়া
  • হাতের কাছে যা পায় তা-ই কামড়ানো বা চিবানো
  • কান ঘষা বা এক গাল লাল হয়ে থাকা
  • খিটখিটে মেজাজ আর রাতে ঘুম ভেঙে যাওয়া
  • লালার কারণে মুখের চারপাশে হালকা র‍্যাশ

NHS বলছে, দাঁত ওঠার সময় শরীরের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে, তবে তা ৩৮°C এর নিচে থাকে। আর দাঁত ওঠার কারণে ডায়রিয়া হয় না (NHS)।

যেসব সমস্যা দাঁত ওঠার লক্ষণ নয়

আমাদের দেশে একটা প্রচলিত ধারণা আছে যে দাঁত উঠলে জ্বর আর পাতলা পায়খানা হবেই। এই ভুল ধারণার কারণে অনেক সময় আসল অসুখ চোখ এড়িয়ে যায়।

AAP স্পষ্টভাবে বলে, দাঁত ওঠার কারণে জ্বর, ডায়রিয়া বা অতিরিক্ত কান্না হয় না, আর এমন লক্ষণ দেখা দিলে ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে (AAP)। বর্ষাকালে ডেঙ্গু বা পানিবাহিত রোগের মৌসুমে এ ব্যাপারে আরও সতর্ক থাকুন।

কখন ডাক্তার দেখাবেন: শিশুর ৩৮°C বা তার বেশি জ্বর, পাতলা পায়খানা, বমি, খেতে না চাওয়া, অস্বাভাবিক নিস্তেজ ভাব বা থামতে না চাওয়া কান্না থাকলে একে দাঁত ওঠা ভেবে বসে থাকবেন না, দ্রুত শিশু বিশেষজ্ঞ দেখান।

নিরাপদে আরাম দেওয়ার উপায়

দাঁত ওঠার ব্যথা কমাতে ঘরেই কিছু সহজ ও নিরাপদ উপায় আছে।

  • পরিষ্কার আঙুল দিয়ে আলতো করে মাড়ি মালিশ করুন।
  • ফ্রিজে ঠান্ডা করা টিদার কামড়াতে দিন। তবে টিদার ফ্রিজারে জমাবেন না, কারণ শক্ত জমাট জিনিস ব্যথা পাওয়া মাড়িতে আঘাত করতে পারে (NHS)।
  • একটা পরিষ্কার ভেজা কাপড় ঠান্ডা করে কামড়াতে দেওয়া যায়।
  • লালা মুছে দিন নিয়মিত, এতে মুখের চারপাশে র‍্যাশ কম হয়।
  • কোলে নিয়ে গল্প করা বা খেলা দিয়ে মনোযোগ অন্যদিকে নিন।

ছয় মাস বা তার বেশি বয়সী শিশু যারা বাড়তি খাবার শুরু করেছে, তাদের নরম ফল কামড়াতে দেওয়া যায়। তবে সবসময় পাশে বসে খেয়াল রাখুন, আর মিষ্টি বিস্কুট বা চিনিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন (NHS)।

আমাদের সিলিকন বল টিদার ৳২০০ দামে পাওয়া যায়, ফ্রিজে ঠান্ডা করে দেওয়ার জন্য উপযোগী। টিদার বেছে নেওয়ার বিস্তারিত পাবেন আমাদের নিরাপদ টিদার গাইডে।

যেগুলো এড়িয়ে চলবেন

  • বেনজোকেইন বা লিডোকেইনযুক্ত মাড়ি অবশ করার জেল, যা AAP শিশুদের জন্য অনিরাপদ বলেছে (AAP)
  • হোমিওপ্যাথিক দাঁত ওঠার ট্যাবলেট বা জেল
  • অ্যাম্বার, কাঠ বা সিলিকনের টিদিং নেকলেস, যাতে গলায় আটকে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে
  • গলায় সুতা দিয়ে টিদার বেঁধে রাখা
  • ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনো ব্যথার ওষুধ দেওয়া

মাড়ি ও প্রথম দাঁতের যত্ন

দাঁত ওঠার আগেও দিনে এক-দুবার পরিষ্কার নরম ভেজা কাপড় দিয়ে মাড়ি আলতো করে মুছে দিলে শিশু মুখ পরিষ্কারের অভ্যাসে অভ্যস্ত হয়। আমাদের Gerber ৮ প্যাক বেবি ওয়াশক্লথ এই কাজে ব্যবহার করতে পারেন।

প্রথম দুধদাঁত দেখা দিলেই ফ্লোরাইডযুক্ত টুথপেস্ট দিয়ে ব্রাশ শুরু করার পরামর্শ দেয় NHS (NHS)। তিন বছরের কম বয়সী শিশুর জন্য টুথপেস্টের খুব পাতলা একটা প্রলেপই যথেষ্ট। দিনে অন্তত দুবার ব্রাশ করুন, যার একবার ঘুমানোর ঠিক আগে। ব্রাশের পর পানি দিয়ে কুলি না করানোই ভালো, এতে ফ্লোরাইড ধুয়ে যায় (NHS)।

একদম ছোট দাঁতের জন্য আমাদের বেবি ফিঙ্গার টুথব্রাশ রাখতে পারেন, দাম মাত্র ৳৪৫।

দাঁতের যত্নে আরও কিছু জরুরি কথা:

  • বোতলে জুস বা চিনিযুক্ত পানীয় দেবেন না
  • এক বছরের আগে মধু দেবেন না
  • চুষনি মধু, চিনি বা জ্যামে ডুবিয়ে দেবেন না
  • দাঁত উঠতে শুরু করলে একজন দন্ত চিকিৎসকের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিন

এই পরামর্শগুলো NHS-এর দাঁতের যত্নের নির্দেশনা থেকে নেওয়া (NHS)।

সাধারণ প্রশ্ন

দাঁত উঠলে কি জ্বর হওয়া স্বাভাবিক?

সামান্য তাপমাত্রা বাড়তে পারে, তবে তা ৩৮°C এর নিচে থাকে। এর বেশি জ্বর হলে সেটাকে দাঁত ওঠার লক্ষণ না ভেবে ডাক্তার দেখান।

এক বছরেও দাঁত না উঠলে কি চিন্তার কিছু আছে?

কিছু শিশুর বারো মাসের পরে দাঁত ওঠে, যা অস্বাভাবিক নয়। তবে চিন্তা হলে নিয়মিত চেকআপে শিশু বিশেষজ্ঞ বা দন্ত চিকিৎসককে জিজ্ঞেস করে নিন।

প্রথম দাঁতে কি টুথপেস্ট লাগাতে হবে?

হ্যাঁ, প্রথম দাঁত ওঠার পর থেকেই ফ্লোরাইডযুক্ত টুথপেস্টের খুব পাতলা প্রলেপ দিয়ে ব্রাশ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। শিশু যেন টুথপেস্ট গিলে না ফেলে, সেদিকে খেয়াল রাখুন।

শিশুর দৈনন্দিন যত্নের প্রয়োজনীয় জিনিস দেখুন আমাদের বেবি কেয়ার কালেকশনে।

1 Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

WhatsApp-এ কথা বলুন