টিদার কী, কখন দেবেন আর কোনটা নিরাপদ

Baby Care

শিশুর মাড়ি চুলকাতে শুরু করলে সে হাতের কাছে যা পায় সবই মুখে দেয়। এই সময়ে একটা ভালো টিদার মা-বাবার বড় সহায় হতে পারে। কিন্তু বাজারে এত ধরনের টিদার যে কোনটা নিরাপদ, কখন দেবেন, আর কীভাবে পরিষ্কার রাখবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকা স্বাভাবিক। এই লেখায় সেই প্রশ্নগুলোর সহজ উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেছি।

টিদার কী এবং কেন দরকার

টিদার হলো এমন একটা জিনিস যা শিশু নিরাপদে কামড়াতে ও চিবাতে পারে। দাঁত ওঠার সময় মাড়িতে চাপ পড়লে অনেক শিশু একটু আরাম পায়।

যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা সংস্থা বলছে, ফ্রিজে ঠান্ডা করা টিদিং রিং মাড়ির অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করতে পারে (NHS)। আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিক্সও নরম রাবার বা প্লাস্টিকের টিদিং খেলনাকে আরাম দেওয়ার একটা উপায় হিসেবে উল্লেখ করেছে (AAP)।

টিদার কখন দেবেন

দাঁত সাধারণত ছয় থেকে দশ মাসের মধ্যে ওঠে, তবে অস্বস্তি শুরু হতে পারে তিন মাস থেকেই (AAP)। তাই নির্দিষ্ট বয়সের চেয়ে শিশুর লক্ষণ দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়াই ভালো।

এই লক্ষণগুলো দেখলে টিদার দেওয়ার কথা ভাবতে পারেন:

  • বেশি লালা পড়া
  • হাত বা কাপড় সারাক্ষণ মুখে দেওয়া
  • মাড়ি লাল বা ফোলা দেখা
  • স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি খিটখিটে থাকা

দাঁত ওঠার লক্ষণ ও সময় নিয়ে বিস্তারিত জানতে আমাদের প্রথম দাঁত ওঠা নিয়ে লেখাটিও পড়ে নিতে পারেন।

কোন ধরনের টিদার পাওয়া যায়

বাজারে মূলত কয়েক ধরনের টিদার দেখা যায়। প্রতিটার সুবিধা আর সাবধানতা আলাদা।

ধরনযা খেয়াল রাখবেন
সলিড সিলিকন বা রাবার টিদারএক টুকরো হলে ভালো, ফ্রিজে ঠান্ডা করা যায়
ঝুনঝুনি ও টিদার একসাথেখেলাও হয়, তবে ছোট খোলা অংশ আছে কি না দেখুন
রিং আকারের টিদারছোট হাতে ধরতে সহজ
ভেতরে পানি বা জেল ভরা টিদারফেটে বা লিক করতে পারে, এড়িয়ে চলুন
ঠান্ডা ভেজা কাপড়ঘরেই সহজে করা যায়

AAP ভেতরে তরল ভরা টিদিং খেলনা এড়িয়ে চলতে বলে, কারণ এগুলো লিক করতে বা ভেঙে যেতে পারে (AAP)।

নিরাপদ টিদার বেছে নেওয়ার উপায়

কেনার সময় শুধু রং বা ডিজাইন দেখে নয়, নিরাপত্তার দিকগুলো মিলিয়ে দেখুন।

  1. টিদারটি এক টুকরো কি না, অথবা কোনো অংশ সহজে খুলে আসে কি না, দেখে নিন।
  2. খুব ছোট টিদার নেবেন না, যা পুরোটা মুখে ঢুকে যেতে পারে।
  3. প্যাকেটে উপাদান ও বয়সের তথ্য পরিষ্কার লেখা আছে কি না দেখুন।
  4. গায়ে কোনো ধারালো কিনারা, ফাটল বা সেলাই খোলা জায়গা থাকা চলবে না।
  5. সহজে ধোয়া যায় এমন আকৃতি বেছে নিন, যাতে খাঁজে ময়লা না জমে।

আমাদের সিলিকন বল টিদার ৳২০০ দামে পাওয়া যায়, যা ছোট হাতে ধরার মতো একটা সহজ বিকল্প। আর খেলা ও কামড়ানো দুটোই একসাথে চাইলে দেখতে পারেন Huanger বেবি ঝুনঝুনি ও টিদার সেট ৫ পিস, যা BPA-ফ্রি এবং দাম ৳১৮৪০। উপহার হিসেবেও এই সেট অনেকে পছন্দ করেন।

টিদার নিয়ে যেসব জিনিস এড়িয়ে চলবেন

কিছু প্রচলিত জিনিস দেখতে নিরীহ হলেও শিশুর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

  • টিদিং নেকলেস বা মালা: অ্যাম্বার, কাঠ, মার্বেল বা সিলিকনের যেকোনো নেকলেসে গলায় আটকে যাওয়া ও শ্বাসরোধের ঝুঁকি আছে (AAP)।
  • গলায় সুতা দিয়ে টিদার বাঁধা: NHS স্পষ্টভাবে বলে টিদিং রিং কখনো শিশুর গলায় বাঁধবেন না (NHS)। আমাদের দেশে তাবিজ বা কালো সুতায় জিনিস ঝুলিয়ে রাখার চল আছে, এখানে সেটা একেবারেই করবেন না।
  • মাড়ি অবশ করার জেল: বেনজোকেইন বা লিডোকেইনযুক্ত জেল শিশুদের জন্য অনিরাপদ বলে AAP সতর্ক করেছে (AAP)।
  • জমাট শক্ত টিদার: টিদার ফ্রিজারে না রেখে শুধু ফ্রিজে ঠান্ডা করুন, কারণ পুরো জমে শক্ত হয়ে গেলে ব্যথা পাওয়া মাড়িতে আঘাত লাগতে পারে (NHS)।
  • মিষ্টি বিস্কুট বা চিনিযুক্ত জিনিস: এগুলো দাঁতের জন্য ক্ষতিকর।

টিদার পরিষ্কার রাখার নিয়ম

শিশু টিদার মুখে দেয়, মেঝেতে ফেলে, আবার মুখে দেয়। তাই টিদার পরিষ্কার রাখা খুব জরুরি।

  • প্রতিদিন হালকা সাবান আর পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে নিন।
  • মেঝেতে পড়লে আবার দেওয়ার আগে ধুয়ে নিন।
  • ভালো করে শুকিয়ে পরিষ্কার ঢাকনাওয়ালা বক্সে রাখুন, যাতে মাছি বা ধুলো না বসে।
  • ফোটানো যাবে কি না, তা প্যাকেটের নির্দেশনা দেখে তবেই ফোটান।
  • প্রতিবার ধোয়ার সময় ফাটল, কামড়ের গভীর দাগ বা ছিঁড়ে যাওয়া অংশ খুঁজুন। এমন কিছু দেখলে টিদার আর ব্যবহার করবেন না।

বাইরে বেড়াতে গেলে একটা পরিষ্কার টিদার আলাদা ব্যাগে রাখুন, যাতে নোংরা হাতে ধরতে না হয়।

ব্যবহারের সময় কিছু সাবধানতা

টিদার দেওয়ার সময় শিশুকে চোখের সামনে রাখুন। ছোট কোনো অংশ ভেঙে গেলে সঙ্গে সঙ্গে সরিয়ে ফেলুন। যৌথ পরিবারে বড় ভাইবোনের খেলনার ছোট টুকরো যেন শিশুর টিদারের সঙ্গে মিশে না যায়, সেদিকেও খেয়াল রাখুন।

কখন ডাক্তার দেখাবেন: দাঁত ওঠার সময় জ্বর, ডায়রিয়া বা থামতে না চাওয়া কান্না দেখা দিলে AAP ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলে, কারণ এগুলো দাঁত ওঠার কারণে হয় না।

সাধারণ প্রশ্ন

টিদার কি ফ্রিজারে রাখা যায়?

না, টিদার শুধু ফ্রিজে ঠান্ডা করুন, ফ্রিজারে জমাবেন না। প্রস্তুতকারকের নির্দেশনায় কতক্ষণ ঠান্ডা করতে হবে লেখা থাকলে তা মেনে চলুন।

অ্যাম্বার নেকলেস কি দাঁতের ব্যথা কমায়?

AAP অ্যাম্বারসহ সব ধরনের টিদিং নেকলেসকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে এড়িয়ে চলতে বলে, কারণ এতে শ্বাসরোধ ও গলায় আটকে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। ব্যথা কমাতে ঠান্ডা টিদার বা মাড়ি মালিশের মতো নিরাপদ উপায় বেছে নিন।

একটা টিদার কতদিন ব্যবহার করা যায়?

নির্দিষ্ট মেয়াদের চেয়ে টিদারের অবস্থা দেখাই আসল। ফাটল, ছিঁড়ে যাওয়া বা আলগা অংশ দেখা দিলেই নতুন টিদার নিন।

শিশুর দাঁত ওঠার সময়ের প্রয়োজনীয় জিনিস দেখুন আমাদের বেবি কেয়ার কালেকশনে।

1 Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

WhatsApp-এ কথা বলুন