ফিডার পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করার নিয়ম: ধাপে ধাপে গাইড

Feeding

ফিডার পরিষ্কার করা দেখতে সহজ কাজ, কিন্তু একটু অবহেলা করলেই বোতলের খাঁজে, নিপলের ভেতরে দুধের পাতলা স্তর জমে থাকে। আমাদের গরম আর আর্দ্র আবহাওয়ায় এই জমে থাকা দুধ খুব তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়। তাই ফিডার পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করার সঠিক নিয়মটা একবার ভালো করে জেনে নেওয়া দরকার।

শুরুতেই একটা কথা পরিষ্কার করে বলি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রথম ছয় মাস শুধু বুকের দুধ খাওয়ানোর পরামর্শ দেয়, আর ছয় মাসের পর অন্য খাবারের পাশাপাশি দুই বছর বা তার বেশি সময় বুকের দুধ চালিয়ে যেতে বলে (WHO)। বোতল কোনোভাবেই বুকের দুধের চেয়ে ভালো বিকল্প নয়। তবে অনেক মা কাজে ফেরার পর চেপে রাখা বুকের দুধ বোতলে দেন, কিংবা ডাক্তারের পরামর্শে বোতল ব্যবহার করতে হয়। সেসব ক্ষেত্রে ফিডারটা যেন সবসময় পরিষ্কার থাকে, সেটাই এই লেখার বিষয়।

ফিডার পরিষ্কার করার আগে যা হাতের কাছে রাখবেন

কাজ শুরুর আগে সব জিনিস এক জায়গায় রাখলে সময় বাঁচে, আর কোনো ধাপ বাদ পড়ে না।

  • ফিডারের জন্য আলাদা একটা পরিষ্কার গামলা বা বাটি, যেটা অন্য থালাবাসন ধোয়ার কাজে লাগবে না
  • বোতল ধোয়ার ব্রাশ এবং নিপলের ভেতর পরিষ্কারের জন্য ছোট ব্রাশ
  • হালকা সাবান বা ডিশ ওয়াশিং লিকুইড
  • ফোটানোর জন্য ঢাকনাসহ বড় একটা পাতিল
  • পরিষ্কার, শুকনো একটা ট্রে বা ঢাকনাওয়ালা বক্স

আমাদের ফিডার ক্লিনিং ব্রাশ (২ পিস) সেটটি ৳৯৯ দামে পাওয়া যায়। দুটো ব্রাশ থাকায় একটা ফিডারের জন্য আলাদা করে রেখে দিতে পারেন। মনে রাখবেন, ফিডারের ব্রাশ দিয়ে যেন হাঁড়িপাতিল না মাজা হয়।

ধাপে ধাপে ফিডার ধোয়ার নিয়ম

খাওয়ানো শেষ হলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বোতল ধুয়ে ফেলুন। দুধ শুকিয়ে গেলে পরে তোলা কঠিন হয়ে যায়।

  1. প্রথমে সাবান দিয়ে নিজের হাত ভালো করে ধুয়ে নিন।
  2. বোতল, নিপল, রিং আর ঢাকনা আলাদা আলাদা করে খুলে ফেলুন।
  3. সবকিছু পানি দিয়ে একবার ধুয়ে বাকি দুধ ফেলে দিন।
  4. গরম পানি আর সাবান দিয়ে বোতলের ভেতরে ব্রাশ ঘুরিয়ে ভালো করে মাজুন, বিশেষ করে তলা আর ঘাড়ের অংশ।
  5. ছোট ব্রাশ দিয়ে নিপলের ভেতরটা পরিষ্কার করুন। চাইলে নিপল উল্টে নিয়েও ধুতে পারেন।
  6. সব অংশ ঠান্ডা চলমান পানিতে ভালো করে ধুয়ে সাবান সরিয়ে ফেলুন।

যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা সংস্থা নিপল পরিষ্কার করতে লবণ ব্যবহার না করতে বলে (NHS)। অনেক বাড়িতে এই অভ্যাস আছে, তাই পরিবারের বড়দেরও বিষয়টা জানিয়ে রাখুন।

ফোটানো বা জীবাণুমুক্ত করার নিয়ম

ধোয়ার পর আসে জীবাণুমুক্ত করার পালা। ঘরে সবচেয়ে সহজ উপায় হলো পানিতে ফোটানো।

  • আগে নিশ্চিত হন যে আপনার ফিডারটি ফোটানো যায়। প্যাকেটের নির্দেশনা দেখে নিন।
  • বড় পাতিলে এমনভাবে পানি নিন যাতে সব অংশ পুরোপুরি ডুবে থাকে, ভেতরে যেন বাতাসের বুদবুদ আটকে না থাকে।
  • পানি ফুটে ওঠার পর অন্তত ১০ মিনিট ফোটান। মোবাইলে টাইমার দিয়ে রাখুন (NHS)।
  • ইলেকট্রিক স্টিম স্টেরিলাইজার বা ঠান্ডা পানির জীবাণুনাশক দ্রবণ ব্যবহার করলে প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা মেনে চলুন।

একই সূত্র অনুযায়ী, শিশুর বয়স অন্তত ১২ মাস না হওয়া পর্যন্ত খাওয়ার সরঞ্জাম জীবাণুমুক্ত করা চালিয়ে যাওয়া উচিত। খেয়াল রাখবেন, ডিশওয়াশার জিনিস পরিষ্কার করে, কিন্তু জীবাণুমুক্ত করে না।

লোডশেডিংয়ের সময় ইলেকট্রিক স্টেরিলাইজার কাজ করবে না, তখন গ্যাসের চুলায় পাতিলে ফোটানোই ভরসা। তাই হাতে সবসময় একটা আলাদা পাতিল রেখে দেওয়া ভালো।

শুকানো ও সংরক্ষণ

জীবাণুমুক্ত করার পর অনেকে গামছা বা ওড়না দিয়ে বোতল মুছে ফেলেন। এতে আবার জীবাণু লেগে যেতে পারে, তাই এটা এড়িয়ে চলুন।

  • ব্যবহারের আগ পর্যন্ত বোতল আর নিপল পাতিল বা স্টেরিলাইজারের ভেতরেই রেখে দেওয়া যায় (NHS)।
  • বের করে নিলে সঙ্গে সঙ্গে নিপল আর ঢাকনা বোতলে লাগিয়ে দিন।
  • বোতল জোড়া লাগানোর কাজ পরিষ্কার, জীবাণুমুক্ত জায়গায় করুন, আর তার আগে হাত ধুয়ে শুকিয়ে নিন।
  • বাড়তি সাবধানতা হিসেবে আলাদা একটা পরিষ্কার ট্রে বা ঢাকনাওয়ালা বক্সে রাখুন, যাতে মাছি বা তেলাপোকা না বসে।

নিপল কখন বদলাবেন

নিপল বদলানোর কোনো নির্দিষ্ট দিন-তারিখ নেই। বরং নিয়মিত চোখে দেখে পরীক্ষা করাটাই আসল। ফোটালে নিপল তুলনামূলক দ্রুত নষ্ট হয়, তাই প্রতিবার ধোয়ার সময় খেয়াল রাখুন (NHS)।

এই লক্ষণগুলো দেখলে নিপল বা বোতল বদলে ফেলুন:

  • নিপলে ছেঁড়া, ফাটল বা ছোট ফুটো দেখা দিলে
  • নিপল আঠালো, ফোলা বা পাতলা হয়ে গেলে
  • রং বদলে গেলে বা ধোয়ার পরও গন্ধ থেকে গেলে
  • বোতলে দাগ, ফাটল বা ঘষার চিহ্ন দেখা দিলে

পুরনো বোতল বদলাতে চাইলে আমাদের ৬০ মি.লি বেবি ফিডার দেখতে পারেন, দাম ৳১৯৯। ছোট আকারের বোতল অল্প পরিমাণ চেপে রাখা বুকের দুধ দেওয়ার জন্য সুবিধাজনক।

যে ভুলগুলো অনেকেই করেন

  • রাতে খাওয়ানোর পর বোতল সকাল পর্যন্ত ফেলে রাখা
  • শুধু পানি দিয়ে ঝাঁকিয়ে ধুয়ে নেওয়া, ব্রাশ ব্যবহার না করা
  • একই ব্রাশ দিয়ে সংসারের সব থালাবাসন মাজা
  • বাসার বিভিন্ন সদস্য হাত না ধুয়েই বোতল ধরা
  • বোতলে অর্ধেক খাওয়া দুধ রেখে পরে আবার খাওয়ানো

যৌথ পরিবারে অনেকে মিলে শিশুর দেখাশোনা করেন। তাই ফিডার ধোয়ার নিয়মটা একটা কাগজে লিখে রান্নাঘরে লাগিয়ে রাখলে সবাই একইভাবে কাজটা করতে পারেন।

কখন ডাক্তার দেখাবেন: শিশুর বারবার পাতলা পায়খানা, বমি, জ্বর বা খেতে না চাওয়া দেখা দিলে দেরি না করে শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

সাধারণ প্রশ্ন

প্রতিবার খাওয়ানোর পরই কি ফোটাতে হবে?

প্রতিবার ব্যবহারের পর ফিডার ভালো করে ধুতে হবে, তারপর জীবাণুমুক্ত করতে হবে। শিশুর বয়স অন্তত ১২ মাস হওয়া পর্যন্ত এই নিয়ম চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

গরম পানি ঢেলে দিলেই কি ফিডার জীবাণুমুক্ত হয়?

না, শুধু গরম পানি ঢেলে দিলে যথেষ্ট হয় না। সব অংশ পুরো ডুবিয়ে পানি ফুটে ওঠার পর অন্তত ১০ মিনিট ফোটাতে হয়, অথবা স্টেরিলাইজারের নির্দেশনা মানতে হয়।

বুকের দুধ খাওয়ালে কি ফিডার লাগবেই?

না। সরাসরি বুকের দুধ খাওয়ানোই শিশুর জন্য সবচেয়ে ভালো, এবং এতে কোনো বোতলের প্রয়োজন হয় না। শুধু চেপে রাখা দুধ দেওয়ার মতো বিশেষ পরিস্থিতিতে বোতল দরকার হতে পারে।

শিশুর খাওয়ার প্রয়োজনীয় সব জিনিস এক জায়গায় পেতে দেখুন আমাদের ফিডিং কালেকশন।

2 Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

WhatsApp-এ কথা বলুন