
৭ থেকে ১২ মাসের শিশুর খাবার তালিকায় থাকবে বুকের দুধের পাশাপাশি দিনে ৩ থেকে ৪ বেলা ঘরে রান্না নরম খাবার, যেমন খিচুড়ি, ডাল, মাছ, ডিম আর মৌসুমি ফল, সঙ্গে ১ থেকে ২টি হালকা নাশতা। বয়স বাড়ার সঙ্গে খাবার পাতলা থেকে ঘন, তারপর চটকানো আর ছোট টুকরায় যাবে। লবণ, চিনি আর মধু এই বয়সে একদম নয়।
শিশুর প্রথম খাবার কীভাবে শুরু করবেন, সেটা আমরা আগেই লিখেছি ৬ মাসে শিশুর প্রথম খাবার লেখায়। এখানে আমরা পরের ধাপ নিয়ে কথা বলব: সাত মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত রোজ কী খাওয়াবেন, কতটা খাওয়াবেন আর কী এড়াবেন।
৭–১২ মাসের শিশুর খাবার তালিকা: কত বেলা, কতটুকু
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ অনুযায়ী ৬ থেকে ৮ মাসে দিনে ২ থেকে ৩ বেলা খাবার, আর ৯ মাস থেকে দিনে ৩ থেকে ৪ বেলা খাবার দিন, দরকার হলে সঙ্গে ১ থেকে ২টি নাশতা (WHO)। বুকের দুধ চলবে আগের মতোই, শিশু যখন চায়।
পরিমাণের একটা ধারণা দিয়েছে ইউনিসেফ। বুকের দুধ খাওয়া শিশুকে ৬ থেকে ৮ মাসে প্রতি বেলায় মোটামুটি আধা কাপ নরম খাবার দিনে ২ থেকে ৩ বার, আর ৯ থেকে ১১ মাসে আধা কাপ করে দিনে ৩ থেকে ৪ বার দেওয়া যায় (UNICEF)। এটা গড় হিসাব, প্রতিটি শিশুর খিদে আলাদা।
বয়স অনুযায়ী খাবারের ধরন
- ৭–৮ মাস: ঘন করে চটকানো খাবার। খিচুড়ি চামচ থেকে গড়িয়ে পড়বে না, এতটা ঘন রাখুন, কারণ পাতলা জাউয়ে পুষ্টি কম থাকে।
- ৮–৯ মাস: একটু দানাদার, হালকা চটকানো খাবার। নরম সেদ্ধ সবজির টুকরা বা কলার টুকরা হাতে ধরিয়ে দিতে পারেন।
- ৯–১২ মাস: নরম খাবার চটকানোর বদলে ছোট ছোট টুকরা করে দিন, হাতে ধরে খাওয়ার খাবার বাড়ান (NHS)।
শিশু খাবার হাতে নিয়ে মুখে দিতে চাইলে উৎসাহ দিন। এ নিয়ে আরও টিপস পাবেন বাচ্চাকে নিজে নিজে খেতে শেখানোর সহজ উপায় লেখায়।
একদিনের নমুনা খাবার রুটিন (৯–১২ মাস)
নিচের রুটিনটা শুধু একটা উদাহরণ। আপনার পরিবারের খাবারের সময়ের সঙ্গে মিলিয়ে নিন।
| সময় | কী দিতে পারেন |
|---|---|
| ঘুম থেকে উঠে | বুকের দুধ |
| সকালের নাশতা | সুজি বা চালের ঘন জাউ, সঙ্গে চটকানো কলা |
| মধ্য সকাল | নরম পেঁপে বা আমের ছোট টুকরা |
| দুপুর | চাল, মসুর ডাল, লাউ বা মিষ্টিকুমড়া, পালংশাক দিয়ে খিচুড়ি, সঙ্গে কাঁটা বাছা মাছ |
| বিকেল | বুকের দুধ, সঙ্গে সেদ্ধ আলু বা গাজরের নরম টুকরা |
| রাত | নরম ভাত, ডাল আর ভালোভাবে সেদ্ধ ডিমের কুসুম ও সাদা অংশ চটকে |
| রাতে ঘুমের আগে | বুকের দুধ |
খাবার চটকাতে একটা আলাদা বাটি থাকলে সুবিধা হয়, যেমন আমাদের Baby Mash Bowl – Food Grade। ছোট মুখে খাওয়ানোর জন্য নরম চামচ ভালো, যেমন Baby Feeding Spoon – Soft Handle।
আয়রনসমৃদ্ধ খাবার কেন জরুরি
ছয় মাসের পর শিশুর আয়রনের চাহিদা বাড়ে, তাই প্রতিদিনের খাবারে আয়রন আছে এমন কিছু রাখুন। মাংস, মাছ, ডাল ও শিমজাতীয় খাবার আর গাঢ় সবুজ শাকসবজি ভালো উৎস (NHS)।
আমাদের দেশে সহজে পাওয়া যায় এমন কিছু খাবার:
- মসুর ও মুগ ডাল
- মুরগির কলিজা বা মাংস, ভালো করে সেদ্ধ করে মিহি করে
- রুই, কাতলা বা অন্য মাছ, কাঁটা বেছে
- পালং, লাল শাক, কচু শাক, ভালোভাবে রান্না করে
- ভালোভাবে সেদ্ধ ডিম
প্রাণিজ খাবার, ডাল, সবজি, ফল আর অল্প তেল মিলিয়ে বৈচিত্র্য রাখুন। রান্নায় সামান্য তেল বা ঘি দিলে খাবারে শক্তি বাড়ে।
যে খাবারগুলো এখন দেবেন না
- মধু: এক বছরের আগে মধু নয়, এতে বোটুলিজম নামের মারাত্মক অসুখের ঝুঁকি থাকে (NHS)। আমাদের দেশে মুখে মধু দেওয়ার রেওয়াজ থাকলেও এটা এড়িয়ে চলুন।
- লবণ ও চিনি: শিশুর খাবারে আলাদা করে লবণ বা চিনি যোগ করবেন না (WHO)। বড়দের তরকারি থেকে খাবার দিতে চাইলে লবণ দেওয়ার আগেই শিশুর অংশ তুলে রাখুন।
- আস্ত বাদাম: গলায় আটকে যাওয়ার ঝুঁকি। গুঁড়া করা বাদাম চলতে পারে, তবে পরিবারে অ্যালার্জির ইতিহাস থাকলে আগে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন।
- কাঁচা বা আধা সেদ্ধ ডিম: ডিম সবসময় পুরোপুরি সেদ্ধ করুন।
- চিপস, বিস্কুট, কোমল পানীয়, প্যাকেটজাত জুস: এগুলোতে লবণ, চিনি বা চর্বি বেশি।
গলায় আটকানোর ঝুঁকি কমাতে আঙুর, চেরি টমেটোর মতো গোল খাবার লম্বালম্বি কেটে দিন, আর খাওয়ার সময় শিশুকে সোজা করে বসিয়ে পাশে থাকুন।
কয়েকটা কাজের টিপস
- খাবার বানানো ও খাওয়ানোর আগে নিজের ও শিশুর হাত সাবান দিয়ে ধুয়ে নিন।
- নতুন খাবার একটা একটা করে দিন, যাতে কোনো সমস্যা হলে বোঝা যায়।
- প্রথমবার না খেলে কয়েক দিন পর আবার দিন।
- শিশু মুখ ফিরিয়ে নিলে বা মুখ বন্ধ করলে বুঝবেন পেট ভরেছে, জোর করবেন না।
- খাওয়ার সময় জামা বাঁচাতে Baby Bib with Front Pocket পরিয়ে নিতে পারেন।
কখন ডাক্তার দেখাবেন: শিশুর ওজন ঠিকমতো না বাড়লে, নতুন খাবারের পর র্যাশ, ঠোঁট ফোলা, বমি বা শ্বাসকষ্ট হলে, কিংবা টানা কয়েক দিন খুব কম খেলে শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
সাধারণ প্রশ্ন
৭ মাসের বাচ্চাকে কী কী খাওয়ানো যায়?
ঘন চটকানো খিচুড়ি, সুজি বা চালের জাউ, ডাল, কাঁটা বাছা মাছ, সেদ্ধ ডিম, কলা, পেঁপে আর সেদ্ধ সবজি দেওয়া যায়। বুকের দুধ আগের মতোই চলবে।
৯ মাসের বাচ্চাকে কি ভাত দেওয়া যায়?
হ্যাঁ, নরম করে রান্না করা ভাত ডাল বা সবজির সঙ্গে হালকা চটকে দেওয়া যায়। এই বয়সে ধীরে ধীরে ছোট টুকরার খাবারে অভ্যস্ত করান।
এক বছরের আগে কি গরুর দুধ দেওয়া যায়?
রান্নায় বা খাবারে মেশাতে অল্প গরুর দুধ ব্যবহার করা যায়, কিন্তু মূল পানীয় হিসেবে এক বছরের আগে নয় (NHS)। এই বয়সে মূল দুধ হলো মায়ের দুধ।
শিশুকে খাওয়ানোর চামচ ও সরঞ্জাম দেখুন আমাদের ফিডিং স্পুন কালেকশনে।
